বিপিএলে ফাইনালের মঞ্চে ফরচুন বরিশালকে রেকর্ড গড়ে জেতার চ্যালেঞ্জ জানায় চিটাগং কিংস। বন্দরনগরীর দলটির সংগ্রহ টপকাতে রেকর্ড গড়ার বিকল্প ছিল না তামিম ইকবালদের সামনে। চিটাগংয়ের চ্যালেঞ্জ দারুণভাবে টপকেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটি। তামিমের ফিফটি ও মেয়ার্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চিটাগংকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে বরিশাল।
সবশেষ ২০১৩ সালে বিপিএল খেলেছিল চিটাগং কিংস। সেবারও ফাইনালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে হেরে যায়। প্রায় একযুগ পর এবারের আসরে ফিরে আবারও ফাইনালে হার দেখল চিটাগং।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শিরোপা মঞ্চে টসে জিতে চিটাগংকে ব্যাটে পাঠায় বরিশাল। নির্ধারিত ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৯৪ রানের সংগ্রহ গড়ে চিটাগং। জবাবে নেমে ৩ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে বরিশাল।
বিপিএলের ফাইনালে সর্বোচ্চ রানতাড়া করে জেতার রেকর্ডটা এখন বরিশালের। ২০২৩ আসরে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ১৭৫ রান ১৯.২ ওভারে তাড়া করেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেটা ছিল সর্বোচ্চ রানতাড়ার রেকর্ড।
বিপিএলে টানা দ্বিতীয়বার বরিশালকে শিরোপা জিতিয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও ইমরুল কায়েসের পাশে নাম লেখালেন তামিম। অধিনায়ক হিসেবে তামিমের টানা দ্বিতীয় শিরোপা এটি। যদিও আরও একবার জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন, সেটা অধিনায়ক হিসেবে নয়। ২০১৯ সালে প্রথম কুমিল্লার হয়ে শিরোপা স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি।
অধিনায়ক হিসেবে তামিমের আগে কেবল মাশরাফী এবং ইমরুলই টানা দুবার শিরোপা জিততে পেরেছেন। মাশরাফী অবশ্য বিপিএলের প্রথম তিন আসরে টানা শিরোপা জিতেছেন। প্রথম দুটি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স আর তৃতীয়টি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে। মাশরাফী ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা জেতান। ২০২২ ও ২০২৩ আসরে টানা দুবার কুমিল্লাকে চ্যাম্পিয়ন করেন ইমরুল। এর আগে ২০১৯ সালেও কুমিল্লার হয়ে শিরোপা জেতেন তিনি।
শিরোপা মঞ্চে রানতাড়ার লক্ষ্যে নেমে বরিশালকে ভালো শুরু এনে দেন তামিম ইকবাল ও তাওহীদ হৃদয়। উদ্বোধনী জুটিতে দুজনে তোলেন ৭৬ রান। ৮.১ ওভারে তামিম ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। নয়টি চার ও এক ছক্কায় ২৯ বলে ৫৪ রান করেন তামিম। একই ওভারে ডেভিড মালানের উইকেটও হারায় বরিশাল। ২ বলে ১ রান করে লেগবিফোরের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান।
কাইল মেয়ার্স আর হৃদয়ের জুটিটাও খুব একটা বড় হয়নি। ১৮ রান যোগ করে জুটি ভাঙে। দলীয় ৯৬ রানে হৃদয় ফিরে যান। তিন চারে ২৮ বলে ৩২ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে মেয়ার্স আর মুশফিকুর রহিম মিলে যোগ করেন ৩৪ রান। ১২.৪ ওভারে ফিরে যান মুশফিক। তিন চারে ৯ বলে ১৬ রান করেন।
১৮তম ওভারে জোড়া উইকেট হারায় বরিশাল। ১৭.৩ ওভারে মেয়ার্সকে ফেরান শরিফুল। তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২৮ বলে ৪৬ রান করেন ক্যারিবীয় তারকা। ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ১৭৩ রানে মাহমুদউল্লাহকেও ফেরান শরিফুল। ১১ বলে ৭ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ১৯তম ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ নবীকে ফেরান বিনুরা ফের্নান্দো। নবী ৪ বলে ৪ রান করেন।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য বরিশালের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। হুসাইন তালাতের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মিঠুন। প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান রিশাদ। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্কোর সমান করেন। স্ট্রাইকে এসে প্রথম বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি তানভীর। পরের বলও ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হন। তবে অতিরিক্ত বাউন্সারের কারণে ওয়াইডের সঙ্কেত দেন আম্পায়ার। তাতেই উল্লাসে মাতে বরিশাল।
চিটাগংয়ের হয়ে শরিফুল ইসলাম ৪টি উইকেট নেন। নাঈম ইসলাম দুটি এবং বিনুরা ফের্নান্দো এক উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে চিটাগংকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার খাজা নাফি ও পারভেজ হোসেন ইমন। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৬ বলে ১২১ রান তোলেন দুজনে। সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৬ রানে নাফি ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। পরে তাণ্ডব চালান ইমন ও গ্রাহাম ক্লার্ক। ১৯.২ ওভারে ১৯১ রানে ক্লার্ক ফিরে যান রান আউট হয়ে। দুটি চার ও তিন ছক্কায় ২৩ বলে ৪৪ রান করেন ক্লার্ক। এক বল পর শামীম হোসেন পাটোয়ারী ফিরে যান রানের খাতা খোলার আগেই।
পরে হুসাইন তালাতকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন ইমন। ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায় ৪৯ বলে ৭৮ রান করেন ইমন। তালাত দুই বল মোকাবেলা করলেও কোনো রান নিতে পারেননি।
বরিশালের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আলি ও ইবাদত হোসেন।








