ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি আংশিক কমিয়েছে চীন। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে চীনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে প্রতি টনে ২ হাজার ২০৫ ইউয়ান এবং ২ হাজার ১২০ ইউয়ান বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে সরকারি সমন্বয়ের পর এই বৃদ্ধি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে যথাক্রমে ১ হাজার ১৬০ ইউয়ান ও ১ হাজার ১১৫ ইউয়ান নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
চীনে ৩০ কোটির বেশি মানুষ পেট্রোল বা ডিজেলচালিত গাড়ি ব্যবহার করেন এবং দেশটির জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে এবং কিছু স্টেশন জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার নোটিশ দিতে বাধ্য হয়েছে।
চলতি বছরে এটি ছিল জ্বালানির পঞ্চম এবং সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি, যদিও পরে তা আংশিক কমানো হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিম্নমূল্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীন দীর্ঘদিন ধরে বড় তেল মজুদ গড়ে তুলেছে। দেশটি ইরান থেকেও তুলনামূলক কম দামে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে, যা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেইজিং সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে তেল রপ্তানি সীমিত রাখতে রিফাইনারিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার বলছে, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনৈতিক চাপ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এশিয়াজুড়ে চাপ ও নানা পদক্ষেপ
শুধু চীন নয়, জ্বালানির বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও। ফিলিপাইনে সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে চার দিন কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, আর থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম নাগরিকদের বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও এই সংকটে বেশি চাপের মুখে পড়েছে, কারণ তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। জাপানে পেট্রোলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি পর্যায়ে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়বে।








