ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার অনেক দেশ জ্বালানি সংকটে পড়লেও তুলনামূলকভাবে কিছুটা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে চীন।
আজ (১৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশগুলোর একটি চীনও চাপের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে দেশটি, যার বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সৌদি আরব ও ইরান উভয় দেশ থেকেই চীন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় চীনের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী।
দেশটির উত্তরাঞ্চল নিজস্ব তেলক্ষেত্র ও রাশিয়া থেকে পাইপলাইনে আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল, যা এই সংঘাতের প্রভাবমুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি চীনের জ্বালানি আমদানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশই আসে রাশিয়া থেকে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা চীনকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বিশ্বে সর্বোচ্চ কয়লা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজেদের চাহিদার বড় অংশই তারা স্থানীয়ভাবে মেটাতে সক্ষম।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই বড় মজুত গড়ে তুলেছে বেইজিং। চীনের তেল মজুত প্রায় ৯০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রায় তিন মাসের আমদানির সমান। আবার কিছু হিসেবে এই মজুত ১৪০ কোটি ব্যারেল পর্যন্তও হতে পারে। সংকটের মধ্যে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চীন ইতোমধ্যে জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।
দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগও চীনের শক্তি হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে দেশটির মোট বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে বায়ু, সৌর ও জলবিদ্যুৎ থেকে। বর্তমানে এই খাতে সক্ষমতা আরও বেড়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের ওপর নির্ভরতা কমছে। চীনে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির অন্তত এক-তৃতীয়াংশই এখন বৈদ্যুতিক, যা জ্বালানি সংকটের প্রভাব কিছুটা লাঘব করছে।
তবে সব দিক থেকে চীন ঝুঁকিমুক্ত নয়। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।


