এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের উদ্যোগে জাপানের আদলে ঢাকায় স্থাপন করা হবে চিলড্রেন’স ট্রাফিক পার্ক। যেখানে নতুন প্রজন্মকে শৈশব থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হাতে কলমে শেখানো হবে সড়কে চলাচলের নিয়ম। চিলড্রেনস ট্রাফিক পার্কে শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরকেও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তোলা হবে।
আজ মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং জাইকার যৌথ উদ্যোগে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেটা হচ্ছে সামগ্রিকভাবে সকলের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সড়ক নিরাপত্তা ও রাস্তা ব্যবহারে ট্রাফিক আইনের ব্যাপারে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। জাইকা এ বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মডেল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাপান সরকার ১৯৬০ সাল থেকে এ কাজগুলো করে যাচ্ছে। জনসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে একেবারে শৈশব থেকে শুরু করতে যাচ্ছি। জাইকা ও ডিএমপির যৌথ উদ্যোগে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ও শিশুদের সচেতন করতে কাজ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিশুরা যেন ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন মানা এবং রাস্তায় কীভাবে চলতে হয় এই বিষয়গুলোর ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে সেজন্য ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চিলড্রেন’স ট্রাফিক পার্ক তৈরি করা হবে।
মেহেদী হাসান বলেন, জাইকার সহযোগিতায় ডাটা অ্যানালাইসিসের ক্ষেত্রে বিশেষ করে যানজট কোথায় হচ্ছে, কোথায় দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে, এই হটস্পটগুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডাটা সংগ্রহ করে সেগুলো অ্যানালাইসিস করে সেগুলোর সমাধান কোথায় সে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব আরোপ করছি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জাইকার ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট (ডিআরএসপি)-এর আওতায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ১৩ জন কর্মকর্তা জাপানে ‘ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। আমাদের মনে হয়েছে শৈশব থেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যেগুলো প্রয়োজন সেগুলো জাপান ওই সময় শুরু করেছে। দেরিতে হলেও আমরা এখন মনে করছি যে, সুনাগরিকের যে বৈশিষ্ট্য সেগুলো কীভাবে শিশুদের ভিতরে প্রবেশ করানো যায় এই উদ্যোগগুলো আমরা এখন থেকে গ্রহণ করছি।
ডিএমপির এই যুগ্ম কমিশনার জানান, বাংলাদেশের যারা সরকারি সেবা গ্রহণ করছেন তাদের মধ্যে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এমন পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া যেটি আইন মানার ক্ষেত্রে, ট্রাফিক আইনের প্রতি ও সড়ক ব্যবহারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলতে সহায়তা করবে। সবার মধ্যে ‘প্রায়োরিটি টু আদার্স ’এমন মানসিকতা তৈরি করতে পরলে আমরা সুন্দর একটি নাগরিক জীবন উপভোগ করতে পারবো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: গাড়ি চালক, পথচারী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে ট্রাফিক আইন ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতন করে তুলতে রাস্তার পাশেই ছোট ছোট আকারে ‘ট্রাফিক এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুরে একটি ট্রাফিক এডুকেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে সেখানে পথচারী থেকে শুরু করে গাড়ি চালকদের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের একটি সেশনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন: ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমোশনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুই সিটি করপোরেশনের সাথে আলোচনা হচ্ছে। অচিরেই ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমোশনের কাজ শুরু হবে।







