ওজন কমানোর ওষুধে বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ভারত। বহুল ব্যবহৃত সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় দেশটিতে শিগগিরই এই ওষুধের সস্তা সংস্করণ বাজারে আসতে পারে, যা শুধু ভারতেই নয়, বৈশ্বিক স্থূলতা মোকাবেলায়ও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
আজ (১৮ মার্চ) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সেমাগ্লুটাইড হলো ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নোভো নরডিস্ক-এর তৈরি জনপ্রিয় ওষুধের মূল উপাদান, যা ওয়েগোভি এবং ওজেম্পিক নামে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো এখন এই ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ তৈরি করতে পারবে।
এর ফলে বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। ওষুধের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে যেতে পারে। বর্তমানে যেখানে স্থূলতার মাসিক চিকিৎসা খরচ প্রায় ৮ হাজার ৮০০ থেকে ১৬ হাজার রুপি, সেখানে জেনেরিক সংস্করণ আসলে তা কমে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার রুপিতে নেমে আসতে পারে।
ভারতে ইতিমধ্যে ৭ কোটির বেশি মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং অতিরিক্ত ওজনের মানুষের সংখ্যাও বিশ্বে অন্যতম বেশি। তাই সস্তা এই ওষুধ বাজারে এলে বিপুল সংখ্যক মানুষ এর সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ধরনের ওষুধে বমি ভাব, হজমজনিত সমস্যা, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া হঠাৎ ওজন কমে গেলে পেশি ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
এদিকে ওষুধের দাম কমে গেলে অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ভারত সরকারও এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাই শুধুমাত্র ওষুধ নয়; সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শই নিরাপদ ও টেকসই ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি।







