চার্লি কার্ককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় টাইলার রবিনসন নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত হত্যাকারী বাবার কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার বাবা তাকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর পরই শেষ হয় পুলিশের ৩৩ ঘণ্টার অভিযান।
এরআগে, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে গুলিবিদ্ধ হন কনজারভেটিভ অ্যাকটিভিস্ট চার্লি কার্ক। এরপর থেকে তার ওপর হামলাকারীকে ধরতে অভিযান শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবেও কর্মরত একজন ব্যক্তি মার্কিন মার্শালদের ফোন করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টার দিকে টাইলার রবিনসন নামের সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে আটক করেন।
শুক্রবার ১৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তকারীরা জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি তার বাবার কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
ইউটাহের গভর্নর স্পেন্সার কক্স বলেন, ইউটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গুলি চালানোর প্রায় চার ঘণ্টা আগে পৌঁছেছিলেন টাইলার রবিনসন। আটকের সময় তিনি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা পোশাকের মতোই পোশাক পরে ছিলেন।
রবিনসন অতীতে ইউটাহ রাজ্যে একজন অনিবন্ধিত বা নির্দলীয় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। তার বাবা ম্যাথিউ কার্ল রবিনসন এবং মা অ্যাম্বার ডেনিস রবিনসন নিবন্ধিত রিপাবলিকান ছিলেন। তারা ইউটাহের সেন্ট জর্জে জিওন ন্যাশনাল পার্কের কাছে বসবাস করেন। রবিনসন দক্ষিণ-পশ্চিম ইউটাহের ডিক্সি টেকনিক্যাল কলেজে বৈদ্যুতিক শিক্ষানবিশ প্রোগ্রামের তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র।
মি. কার্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন প্রভাবশালী মিত্র ছিলেন। তার মৃত্যুর পর “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোকার্ত এবং ক্ষুব্ধ” উল্লেখ করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে চার্লি কার্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনীতিতে নামার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স প্রথমে যাদেরকে ফোন করেছিলেন তাদের মধ্যে একজন চার্লি কার্ক। মি. কার্কের মৃত্যুতে তিনি শোকবার্তা দিয়েছেন। তার মাধ্যমে সিনেট পরিচালনাকারী কিছু লোকের সাথে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাথেও পরিচয় হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, চার্লি কার্ক কখনও পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা কোনও সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হননি। শিকাগোর শহরতলির একজন অজানা কর্মী থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ মেগা আন্দোলনের পতাকাবাহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
তরুণ রিপাবলিকানদের কাছে কার্ক ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর সেতু। ২০২৪ সালে তার জয়ের জন্য কার্ক এবং তার সংগঠনকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প।








