জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু। মামলাটিতে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন।
আজ (১৫ ডিসেম্বর) সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তিতর্কের শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। এরপর উপস্থিত ও পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরবেন। সবশেষে উভয়পক্ষের পাল্টা যুক্তি ও খণ্ডন পর্ব সম্পন্ন হবে। এই ধাপ শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য প্রস্তুত হবে।
এই মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। পলাতক চার আসামি হলেন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
চলতি মাসের মধ্যেই উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মামলার আসামি শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন জুয়েল মাহমুদ। গত ১০ ডিসেম্বর তিনি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি শহীদ মিনারে অংশ নেন এবং ওই দিন আরশাদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাতে সরকার পতনের খবর জানান। এছাড়া ৮ ডিসেম্বর নিজ পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন আরশাদ হোসেন নিজেই।
জবানবন্দীতে আরশাদ হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে তিনি কেবল সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চানখারপুলে কোনো ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেননি। একই দিন সাফাই সাক্ষ্য দেন মো. সোলাইমান। সব মিলিয়ে মামলায় তিনজন সাফাই সাক্ষ্য দেন। তাদের জেরা শেষে যুক্তিতর্কের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, গত ৩০ নভেম্বর আরশাদ হোসেনের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তিনজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দেন। এই আবেদনটি করা হয়েছিল ২৭ নভেম্বর। একই দিন মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামের জেরা শেষ করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
প্রসঙ্গত, তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ১২ নভেম্বর জবানবন্দী দেওয়া শুরু করেন এবং ১৯ নভেম্বর টানা তৃতীয় দিনের মতো তার সাক্ষ্য শেষ হয়। তিনি সাক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় নিজের করা তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন এবং জব্দকৃত আলামত ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেন। পরে তার জেরা অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে ২৩ কার্যদিবসে ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের পাশাপাশি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।








