ওয়েম্বলিতে গোল মিসের মহড়ায় মেতেছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়ায় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্বিতীয় শিরোপা ছোঁয়া হল না ইয়েলো ওয়ালদের। দানি কারভাহাল ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ঝলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫তম শিরোপা ঘরে তুললো স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ইউরোপসেরার মঞ্চে ২-০ গোলে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোস বাহিনী। ৭৪ মিনিটে কারভাহাল এবং ৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়াস মাদ্রিদের গোল দুটি এনে দেন। জয়ের পেছনে অনন্য অবদান রেখেছেন চোট থেকে সদ্য প্রত্যাবর্তন করা গোলরক্ষক থিবো কোর্ত্তয়াও। ডর্টমুন্ডের দারুণ কিছু গোলের সুযোগ প্রতিহত করেছেন বেলজিয়ান তারকা।
ইউরোপসেরার লড়াইয়ে বল দখলে আধিপত্য ছিল রিয়ালের। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে আক্রমণে নিজেদের তেজ দেখায় জার্মান ক্লাব বরুশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি তারা। ১১ বছর আগের আক্ষেপ আর ঘোচানো হল না তাদের।

ওয়েম্বলিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ডর্টমুন্ড। ষষ্ঠ মিনিটে আক্রমণে যায় জার্মানির ক্লাবটি। কর্নারে আসা বল ক্লিয়ার করেন ফেরলান্ড মেন্ডি। কর্নার থেকে গোলের সুযোগ আসে ডর্টমুন্ডের সামনে। নিকলাস ফুলক্রুগের হেড ঠিকঠাক না হওয়ায় গোলবঞ্চিত হয় হলুদ জার্সির দল। বল বেরিয়ে যায় পোস্টের বাঁ-পাশ দিয়ে।
১২ মিনিটে প্রথমবার আক্রমণে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। জুড বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ভালভার্দে। দুই মিনিট পর আক্রমণে যায় ডর্টমুন্ড। ফুলক্রুগের বাড়ানো বল গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হন জুলিয়ান ব্যানড্রিট। ১৫ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করে রিয়াল, নিশানা ঠিক রাখতে পারেননি ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ভালভার্দের বাড়ানো বল পাঠিয়ে দেন বাইরে।

২১তম মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পায় বুন্দেসলিগার ক্লাবটি। ম্যাট হামেলসের বাড়ানো বল একা পেয়ে গোলবারের দিকে এগিয়ে যান কারিম আদিয়েমি। তখন ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব কোর্ত্তয়ার। ওয়ান ভার্সেস ওয়ান লড়াইয়ে আদিয়েমিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক। গোল হজম থেকে বেঁচে যায় রিয়াল।
দুই মিনিট পর আবারও গোল হজম থেকে রিয়ালকে রক্ষা করেন কোর্ত্তয়া। আদিয়েমির শট ঠেকিয়ে দেন তারকা গোলরক্ষক। ২৮ মিনিটে ব্যানড্রিটের বাড়ানো বল ফের জাল অভিমুখে পাঠান আদিয়েমি। এবারও ত্রাতা কোর্ত্তয়া। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রিয়ালকে শঙ্কামুক্ত করেন। বল পেয়ে ফুলক্রুগ হেডে জালে পাঠানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হন।
৩৫ মিনিটে ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে আঘাত করে হলুদকার্ড দেখেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ৪১ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ পায় বরুশিয়া। বেনড্রিটের বাড়ানো বল জাল অভিমুখে শট নেন মার্সেল সাবিজার। এবারও ত্রাতা কোর্ত্তয়া। বাঁ-দিকে লাফিয়ে প্রতিহত করেন কর্নারের মাধ্যমে।

প্রথমার্ধের যোগকরা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন রিয়াল তারকা টনি ক্রুস। তার ডানপায়ের শট বেরিয়ে যায় গোলবারের বাঁ-দিক দিয়ে। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর ভিন্ন চিত্রে দেখা মেলে রিয়ালের। প্রথমার্ধে চাপে থাকা দলটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণে যায়। ৪৯ মিনিটে গোলবারের মাত্র ছয় গজ দূর থেকে সুযোগ পায় রিয়াল। টনি ক্রুসের নেয়া কর্নার কিকে হেডে গোল আদায়ে ব্যর্থ হন কারভাহাল।
৫১ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ মিস করে ডর্টমুন্ড। নিকলাস ফুলক্রুগের বাড়ানো বল থেকে মাতসেনের গোল চেষ্টা প্রতিরোধ করেন কোর্ত্তয়া। এরপর মাঝমাঠের লড়াইয়ে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় রিয়াল। গোলের চেষ্টা করে বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হতে হয় কার্লো আনচেলত্তি শিষ্যদের।

৫৭ মিনিটে কারভাহালের প্রচেষ্টা রুখে দেন বরুশিয়া গোলরক্ষক কোবেল। ৬৩ মিনিটে আদিয়েমির বাড়ানো বল রিয়ালের জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন ফুরক্রুগ। তার হেড কর্নারের মাধ্যমে প্রতিহত করেন জুলিয়ান রেয়ারসন।
৬৬ মিনিটে অপেক্ষা বাড়ে রিয়ালের। টনি ক্রুসের কর্নার কিক থেকে গোল আদায়ে ব্যর্থ হন ভিনিসিয়াস। ৭৩ মিনিটে ভালভার্দেকে ঠেকিয়ে দেন কোবেল। কর্নার পায় রিয়াল। তাতে অপেক্ষার অবসান হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রিয়াল সমর্থকরা মাতেন গোল উল্লাসে।

টনি ক্রুসের কর্নার কিকে আসা বল সেসময় গোলপোস্টের ছয় গজ দূর থেকে হেডে জালে পাঠান কারভাহাল। লিড পেয়ে আরও গর্জে ওঠে আনচেলত্তির দল। ৭৭ মিনিটে কামাভিঙ্গার পাস থেকে সহজ গোলের সুযোগ মিস করেন বেলিংহ্যাম।
তিন মিনিট পর টনি ক্রুসের ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে দেন ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক। পরের মিনিটে কামাভিঙ্গার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করেন কোবেল। একের পর এক আক্রমণে দ্বিতীয় গোলটির জন্য রিয়ালের অপেক্ষা করতে হয়নি বেশিক্ষণ। ৮৩ মিনিটে ডর্টমুন্ডের জালে বল পাঠান ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

ডানপাশ থেকে আক্রমণে যায় রিয়াল। রদ্রিগো বল বাড়িয়ে দেন বেলিংহ্যামকে, ইংলিশ তারকা থেকে বল যায় ভিনিসিয়াসের দিকে। কৌশলি শটে ইয়েলো ওয়ালদের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ২-০তে এগিয়ে যায় আনচেলত্তির দল।
৮৬তম মিনিটে মাঠ থেকে বিদায় নেন টনি ক্রুস। তার পরিবর্তে নামেন লুকা মদ্রিচ। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে ক্রুসের অ্যাসিস্টে প্রথম গোলটি আদায় করেছিল রিয়াল। সেইসঙ্গে রিয়ালের জার্সিতে ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন জার্মান তারকা।
৮৭ মিনিটে রিয়ালের জালে বল পাঠান ফুলক্রুগ। অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় গোলবঞ্চিত হতে হয়। এরপর চেষ্টা করে আর লাভ হয়নি জার্মান ক্লাবটির। ১১ বছর পরও আবারও শিরোপার কাছাকাছি এসে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে, সেই ওয়েম্বলি থেকেই। ২০১২-২০১৩ মৌসুমে ইউরোপসেরার লড়াইয়ে স্বদেশি ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিল দলটি। এবারও ইউরোপসেরার মুকুট স্পর্শে ব্যর্থ ডর্টমুন্ড।







