মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম পর্বের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে কোন অঘটন ছিল না। হাইভোল্টেজ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে ফের হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাব বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চেলসিকে হারিয়েছে গতআসরের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। বোডো/গ্লিমটের স্বপ্নভঙ্গ করে ইতিহাস গড়ে জিতেছে স্পোর্টিং লিসবন। বেয়ার লেভারকুসেনকে হারিয়ে আসরে অপরাজিত রয়ে গেছে আর্সেনাল।
অপ্রতিরোধ্য, অবিশ্বাস্য, অপরাজিত আর্সেনাল, চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০ ম্যাচে ৯ জয় এক ড্র। ম্যাচজুড়ে লন্ডনের ক্লাবটি বেশ আক্রমণ চালালেও রুখে দেন লেভারকুসেন গোলরক্ষক জ্যানিস ব্লাসউইচ। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে এবেরেচি ইজে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শটে গোল আনলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। পরে আবারও ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট, ৬৩ মিনিটে সেখানে থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেক্লান রাইস। ২-০ গোলের জয় নিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১এ পরের রাউন্ডের টিকিট কাটে আর্সেনাল।
সিটির মাঠে ভিনিসিয়াসের জোড়া গোলে ২-১এ জিতেছে রিয়াল। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্বক খেলতে থাকে সিটি এবং সফরকারীরা। ২০ মিনিটে বের্নার্দো সিলভা ডি-বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল করে লাল কার্ড দেখেন, পেনাল্টি পায় লস ব্লাঙ্কোস দল। তাতে ২২ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। পরে বেশকিছু সুযোগ হাতছাড়া করেন এ ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচের ৪১ মিনিটে ব্যবধান সমান করেন আর্লিং হালান্ড।
৭৮ মিনিটে সিটির রায়ান আইতি নৌরি বল জালে জড়ালেও অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। ৮২ মিনিটে ভিনিসিয়াসের দুটি শট দোন্নারুম্মা ফিরিয়ে দিলে সিটি বাঁচে। অবশেষে রিয়ালের ফেদেরিকো ভালভার্দে গোলের দেখা পান, সেটাও অফসাইডে বাতিল হয়। ৯০ মিনিট শেষে ছন্নছাড়া সিটির বিপক্ষে পরপর দুই গোল করেন ভিনিসিয়াস, যার মধ্যে আবারও অফসাইডে একটি বাতিল হয়। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলের জয়ে শেষ আটে নাম লেখায় ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল।
ঘরের মাঠে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে পাত্তাই পায়নি চেলসি। পিএসজির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে ক্লাব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ষষ্ট মিনিটে খভিচা কভারতসখেলিয়ার গোলে লিড পায় সফরকারীরা, ১৪ মিনিটে পিএসজির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা, ৬২ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন সোনি মায়ুলু। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টারে যায় ফরাসি ক্লাবটি।
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে এসে রীতিমতো বাজিমাত করেছিল বোডো/গ্লিমট। সিটি, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, ইন্টার মিলানের মতো দলকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে। সেখানে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে স্পোর্টিং লিসবনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রায় কোয়ার্টারে এক পা দিয়ে রেখেছিল দলটি। কিন্তু পর্তুগিজ ক্লাবটি দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে গড়ে ফেলল ইতিহাস। নরওয়ের ক্লাবটিকে ৫-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবরের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা আটে জায়গা করে নেয়, সেটিও আবার মৌসুমের প্রথম দল হিসেবে।
দ্বিতীয় লেগে ম্যাচের ৩৪ মিনিটে স্পোর্টিংকে লিড এনে দেন গনকালো ইনাসিও, ৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো গন্সাল্ভেস। ৭৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দুই লেগের ব্যবধান সমান করেন লুইস সুয়ারেজ। ৯০ মিনিট শেষে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর হয় ৩-৩, খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে লিসবনের চতুর্থ গোল করেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউজো। ম্যাচের শেষ মিনিটে রাফায়েল নেল গোল করলে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩এ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় স্পোর্টিং লিসবন।








