চাঁদা না দেওয়ায় নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে ঢাকায় কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
মাধবদী থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এস এম ফয়েজ বাদী হয়ে এই মামলা করেন। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে বাস পার্কিং এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
আহত এস এম ফয়েজ জানান, ‘ক্র্যাব ফ্যামিলি ডে–২০২৬’ উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যরা পরিবারসহ ১২টি বাসে করে সকালে ড্রিম হলিডে পার্কে যান। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় বাসে ওঠার সময় পার্কিং ফি নিয়ে স্থানীয় আলী গাড়ি পার্কিংয়ের মালিক হারুন মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা-কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে পার্কিং ফি’র রশিদ চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন হারুন মিয়া, তার ছেলে ও সহযোগীরা দা, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
অভিযোগ রয়েছে, আলাল সরকার নামের এক ব্যক্তি ধারালো দা দিয়ে এস এম ফয়েজের মাথায় আঘাত করেন। একই ঘটনায় খবর সংযোগের সিনিয়র রিপোর্টার শহিদুল ইসলাম শাহেদ ও জিটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মহসিন কবিরও আহত হন। মহসিন কবিরের কাছ থেকে চার হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার সাখাওয়াত কাউছার, এশিয়ান টিভির ক্রাইম চিফ নয়ন এবং ক্র্যাবের কর্মী লাল মিয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা একটি ভাড়া করা বাসের কাচ ভেঙে দেন এবং বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেন।
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলাল সরকার (২৬) ও রনি মিয়া (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, মামলা হয়েছে। আশা করছি পুলিশ সব আসামিদের গ্রেপ্তার করবে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।







