দীর্ঘদিনের গোপন নজরদারি ও যৌথ সামরিক পরিকল্পনার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
রোববার (২ মার্চ) প্রকাশিত ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত অভিযানের পেছনে ছিল বহু বছরের গোয়েন্দা তৎপরতা। তেহরানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পাস্তুর স্ট্রিটে নজরদারি চালানো হয়। যেখানে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও নেতৃত্বের কমপাউন্ড অবস্থিত বিস্তৃত ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে কর্মকর্তাদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়। উন্নত অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৈনন্দিন রুটিন, বাসস্থান, দায়িত্বপালনের সময়সূচি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের ‘প্যাটার্ন অব লাইফ’ তৈরি করা হয়।
ইসরায়েলের সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মানবসূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি শনিবার সকালে তার কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এক মানবসূত্র তার উপস্থিতি নিশ্চিত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া পাস্তুর স্ট্রিট সংলগ্ন কয়েকটি মোবাইল টাওয়ার আংশিকভাবে অচল করে দেওয়া হয়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা আদান-প্রদান করতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বৈঠক নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের বরাতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী সাইবার হামলার মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, অভিযানটি ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, খামেনি আত্মগোপনে না থেকে নিয়মিত অফিসে যেতেন। শনিবার সকালে বৈঠকের সময় তিনি ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকায় হামলার সুযোগ তৈরি হয়। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রোববার ভোরে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।







