শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে শ্রমিক ইস্যুর সুস্পষ্ট অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বাচিত সরকারের ওপর বাস্তবায়নমূলক চাপ তৈরি করা জরুরি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শ্রমিক ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনসমূহের সম্মিলিত উদ্যোগে গঠিত ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনাটি সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।
এলায়েন্সের সদস্য সচিব ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শ্রম বিষয়ক একাডেমিয়া, গবেষক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, শ্রমিক ইশতেহার ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ভারসাম্যপূর্ণ শিল্প সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং শিল্প-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নকে নির্বাচিত সরকারের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে নাগরিক সমাজসহ সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, শ্রমিক ইশতেহারে মানবিক মর্যাদা, শোষণহীন কর্মপরিবেশ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন না হলে এসব দাবির বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে নেমেছেন এবং প্রাণ দিয়েছেন। তাই শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নে শ্রমিকদের মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ন্যায্য মজুরি, শোভন কর্মপরিবেশ, লিঙ্গ বৈষম্য ও সহিংসতা নিরসন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার, নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র, মূল্যস্ফীতির সময়ে শ্রমিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত না করলে শ্রমিক ইশতেহার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
আলোচনা সভায় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা শ্রমিক ইস্যুকে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দুতে আনার আহ্বান জানান।








