যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক রোগ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়া প্রথম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হতে যাচ্ছে তারা।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই নেটওয়ার্কে বিশ্বের ৩৬০টিরও বেশি প্রযুক্তিগত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। বিভিন্ন দেশে জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ পাঠিয়ে সহায়তা করে এই নেটওয়ার্ক। কোভিড-১৯ মহামারিসহ একাধিক বড় জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই সিদ্ধান্ত আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছর আগের ঘোষণার পর, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ডব্লিউএইচও থেকে প্রত্যাহারের নোটিশ দেন। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ায়। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারি ব্যবস্থাপনায় ডব্লিউএইচও-এর ব্যর্থতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে বেপরোয়া সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এক বিবৃতিতে গভর্নর নিউজম বলেন, এই সিদ্ধান্ত যে বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে, ক্যালিফোর্নিয়া তার নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না। আমরা বিশ্বজুড়ে অংশীদারিত্ব জোরদার করব এবং জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অগ্রভাগে থাকব ডব্লিউএইচও এর গ্লোবাল আউটব্রেক অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স নেটওয়ার্কের একমাত্র অঙ্গরাজ্য সদস্য হিসেবে।
গভর্নরের দপ্তর জানায়, চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানোম গেব্রিয়েসুসের সঙ্গে বৈঠক করেন গ্যাভিন নিউজম। বৈঠকে নতুন ও উদীয়মান জনস্বাস্থ্য হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।


