নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নেওয়া যে শহরে অভ্যাস, সেই শহরে চালু হয়েছে ই-টিকিট। ভাড়া নিয়ে দেওয়া হচ্ছিল টিকিট, যেটা বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থার মাঝে একটু শৃঙ্খলার উদাহরণ। কিন্তু সেটা কি আদৌ বাস্তবতা? সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলছে ভিন্ন চিত্র। টিকিট ছাড়াই কাটা হচ্ছে ভাড়া। অনেক যাত্রী টিকিট চাইলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে না। চিরাচরিতভাবে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
মিরপুর রুটের শিকড়, বিহঙ্গ, খাজাবাবা, ট্রান্সসিলভা; মোহাম্মদপুর রুটের প্রজাপতি, পরিস্থান, রমজান, মালঞ্চ কোন বাসেই টিকিট দেওয়া হয় না। ওয়েবিলের নাম নেওয়া হয় বাড়তি ভাড়া।
চ্যানেল আই অনলাইনের এ প্রতিবেদক মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারগামী স্বাধীন বাস ধরে ফার্মগেট যাওয়ার জন্য। ই-টিকিটিং মেশিন কন্টাক্টরের কাছে থাকলেও তিনি কাউকে টিকিট দিচ্ছেন না। এই প্রতিবেদক তার কাছে টিকিট চাইলে বললেন, মেশিন নষ্ট!
এরপর ফার্মগেট থেকে মিরপুর থেকে আসা শিকড় পরিবহনে প্রেসক্লাব যাওয়া। সেখানেও একই চিত্র। টিকিট চাইলেও মিলল না। তার যুক্তি ভাড়া তো একই টিকিট নিয়ে কী লাভ। এই দুই বাসেই একজন করে চেকার উঠতে দেখা গেল। ওয়েবিল ব্যববস্থা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা এখনও চলছে আগের মতোই।
যাত্রীদের অভিযোগ: ই-টিকিটিং ব্যবস্থার সুফল প্রথম কিছুদিন পাওয়া গেলেও পরে সেটা উধাও হয়ে যায়। এখন বাসে উঠলে কন্টাক্টরদের কাছে ই-টিকিট দেওয়ার মেশিন থাকলেও টিকিট দেওয়া হয় না। আগের মতো বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়।
৬ মাসেরও বেশি সময়েও কোন ইটিকিটিংয়ের ব্যবহার বাড়ানো যাচ্ছে না জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ’র কাছে। তিনি জানান: কিছু কিছু গাড়ি কন্ট্রাক্ট সিস্টেমে চলে। আমরা এসব অনিয়ম বন্ধে কাজ করছি। এই লোকগুলো সুযোগ পেলেই টিকিট না দিয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করে। আমরা এটা বন্ধের চেষ্টা করে যাচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হয় আমরা কাজ করব।
ইটিকিটিং ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একটি দল মাঠে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন: অন্যায্য অগ্রহণযোগ্য উপায়ে ভাড়া আদায় করতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, টিকিট দেওয়া হয় না । টিকিটের দাম অতিরিক্ত রাখা হয়। মূলত পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা না ফিরিয়ে শুধু ই-টিকিটিং চালু করে যাত্রী সেবার মান ভালো করা সম্ভব না।
বিআরটিএ’র এক্সজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন: আমরা রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। এসময় সাধারণত বাসের ফিটনেস, রুট পারমিট, লাইসেন্স ঠিকঠাক আছে কিনা সেগুলো দেখা হয়। কোন যাত্রী যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেন তখন আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক বলেন: দিন শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা মালিকদের দিতে হয় বলে চালকরা ই-টিকিটিং চালুতে আগ্রহী নয়। মালিকদের নির্দিষ্ট বেতন চালু করতে হবে। ডিভাইস নির্ভর না করে যাত্রীদের হাতে র্যাপিড বা পাস কার্ড দিলেই কেবল বাড়তি ভাড়ার এ ভোগান্তি থেকে রক্ষা হবে। সেক্ষেত্রে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়ন জরুরী।
বিআরটিএ’র তথ্য বলছে ঢাকা এবং এর আশেপাশের এলাকার মধ্যে ৯৭টি কোম্পানির ৫ হাজার ৬৫০টি বাস চলাচল করে।
গত বছরের শেষ ভাগে ১৩ নভেম্বর ৩০টি বাসে ইটিকিটিং ব্যবস্থা চালু হয়। পরে আরও দুই ধাপে ৫৮টি বাস আসে ই-টিকিটিংয়ের আওতায়। প্রথম কয়েকদিন টিকিট দেওয়া হলেও পরে আর দেখা যায় অনীহা।








