রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জন নারী, ১ শিশুসহ মোট ১১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কের মৃত ইসমাইল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬০) ও রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাংশা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম (৫৬)।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। বাসে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন।
এ ছাড়া ১১ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ঘাট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুনে ওঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থানরত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তবে বাসটি যেখানে পড়েছে, সেখানে পানির গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া ডুবুরি দল আলাদাভাবে যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
এদিকে, পুরো ঘটনা তদন্তে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
অপরদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীসহ বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।








