রাজধানীর ভাটারা থানার জোয়ারসাহারা এলাকায় ডিওএইচএস সোসাইটির রিকশার নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে চালকের পায়ে গুলি ও অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান বিভাগ।
ডিবি জানায়, ঠুনকো ঘটনায় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির নেপথ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক, চাঁদাবাজিসহ অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হতো। চালককে গুলির ঘটনায় দায়ের করা মামলা ছায়া তদন্তে নেমে সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পান গোয়েন্দারা।
গ্রেপ্তাররা হলেন রাশেদুজ্জামান খান রাজু, রকিব হোসেন মুন্না, মো. শারিকুল ইসলাম খান, মো. আজিম পাটোয়ারী, মো. মাহবুব খান, শরীফ খান ও মো. সোহরাব খান।
শনিবার (২৩ মার্চ) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশী পিস্তল, একটি বিদেশী রিভলভার, একটি বিদেশী শর্টগান, ভাঙ্গা রিভলবার, ভাঙ্গা ৯এমএম পিস্তল, ৭৫ রাউন্ড গুলি, দুটি শর্টগানের কার্তুজ, ২১০ রাউন্ড গুলির খোসা, পাঁচটি পুরাতন ম্যাগজিন, ৪০ গ্রাম গান পাউডার ও বিভিন্ন অস্ত্রের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।
রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, চলতি মাসের ১৮ তারিখ রাজধানীর ভাটারা থানার জোয়ারসাহারা এলাকায় ডিওএইচএস সোসাইটির রিকশার নম্বর প্লেটকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সেসময় গ্রেপ্তার রাজু ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তার সহযোগী মুন্না রিকশা চালক রুবেলকে গুলি করলে তার ডান পায়ে লাগে। এরপরই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে অস্ত্র উদ্ধার করতে মাঠে নামে ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগ। পরে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় রাজধানীসহ গাজীপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় ভাটারা থানার জোয়ারসাহারার খাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে রাজুর পারিবারিক কবরস্থানের পাশের বাথরুম থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ডিবি প্রধান বলেন, আসামিরা এই সব অস্ত্র ব্যবহার করে ভাটারাসহ আশাপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা করেছিলো। এর অংশ হিসেবে রিকশার নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া চালায় তারা। গ্রেপ্তাররা ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আর কারা তাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভাটারার জোয়ারসাহারা এলাকায় জমি কেনা-বেচা, ভবন নির্মাণ, টেন্ডারবাজি আধিপত্য বিস্তারসহ প্রায় সময়েই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। রুবেলের ঘটনার মধ্যদিয়ে তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সবুজবাগ থানা এলাকায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সেটাতেও আমরা ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছি। ৫ পাঁচটি অস্ত্র ও ৫০ রাউন্ডগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে শতাধিক রাউন্ডগুলিসহ ১১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে জানান ডিবি প্রধান।








