গত বছর ৩১ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে নাইট ক্লাবে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে মারামারিতে জড়ান হ্যারি ব্রুক। ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক কদিন আগেই বলেছিলেন, ওই ঘটনায় কেবল তিনিই ছিলেন। তবে শুক্রবার রাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টি জেতার পর স্বীকার করলেন, ঘটনার সময় তিনি একা ছিলেন না, সতীর্থরা ছিলেন তার সঙ্গে। তাদেরকে আড়াল করতেই তখন মিথ্যা বলেছিলেন।
ব্রুক বলেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি একাই ছিলেন। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্য দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ‘সে সময় ঘটনাস্থলে ব্রুকের সঙ্গে ইংল্যান্ডের ব্যাটার জ্যাকব বেথেল এবং পেসার জশ টাং উপস্থিত ছিলেন। তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এরপরই বিবৃতিতে আগের অবস্থান থেকে সরে এলেন ব্রুক।
বিবৃতিতে ব্রুক বলেন, ‘ওয়েলিংটনে আমার আচরণের সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি এবং স্বীকার করছি সেদিন রাতে সেখানে অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আমার আগের মন্তব্যের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি শুধু চেয়েছিলাম আমার সতীর্থদেরকে রক্ষা করতে, যেন নিজের কারণে সৃষ্টি হওয়া একটি পরিস্থিতিতে আমার সতীর্থদের যেন টেনে আনা না হয়।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডের আগের দিন রাতে নাইটক্লাবে প্রবেশের সময় বাধা পান ব্রুক। অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় দেখে তাকে নাইটক্লাবে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না নিরাপত্তারক্ষীরা। পরে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাকে আঘাত করেন নাইটক্লাবের বাউন্সার।
দ্য টেলিগ্রাফে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই ঘটনাটি সবার সামনে আসে। ঘটনাটি ব্রুক নিজেই পরে দলের সংশ্লিষ্টদের জানান। ইসিবির বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা (৩০ হাজার পাউন্ড) করা হয় তাকে। শেষবারের মতো সতর্ক করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এরপর গত সপ্তাহে কলম্বোতে ব্রুক জানান, ওয়েলিংটনের ঘটনায় তিনি একাই ছিলেন। সেসময় তিনি বলেন, ‘আমরা দু-একটা ড্রিংক নিয়েছিলাম, তারপর আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কিছু ড্রিংকের জন্য বের হয়ে যাই এবং সেখানে একাই ছিলাম। আমি একটি ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাউন্সার (নিরাপত্তাকর্মী) আমাকে আঘাত করে। যেমনটি আগেও বলেছি, শুরু থেকেই এই পরিস্থিতিতে থাকা উচিত হয়নি আমার…পুরোপুরি মাতাল ছিলাম না।’
তখন মিথ্যা জানালেও এবার বিষয়টি স্বীকর করেছেন ব্রুক। ক্ষমা চেয়ে তিনি জানালেন, ভুল থেকেই শিখবেন। বলেছেন, ‘আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি এবং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে থাকব। আমার ক্যারিয়ারে চ্যালেঞ্জিং সময় এটি, তবে এখান থেকে শিখছি। আমি অনুধাবন করছি, নেতৃত্ব ও অধিনায়কত্বের সঙ্গে মাঠের বাইরের যে দায়িত্বগুলো থাকে, সেসব নিয়ে আমাকে আরও শিখতে হবে বলে মেনে নিচ্ছি। আমি জায়গায় নিজেকে আরও গড়ে তুলতে এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে উন্নতির করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।’






