রিটেইল বা খুচরা বিক্রয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ২ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক। এই লক্ষ্যে ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি (এসডিপি) দেশের ২০টি শীর্ষস্থানীয় রিটেইল বা খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
এর আওতায় নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন চেইন শপে চাকরি ও শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের সুযোগ পাবেন।
‘রিটেইল সেলস অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে এই এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
এই উদ্যোগের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের প্রায় ২ হাজার তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা দুই দিনের একটি বুটক্যাম্পে অংশ নিয়ে বিক্রয় কর্মী হিসেবে দক্ষতা অর্জন, গ্রাহক সেবা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রের নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন। পরের ধাপে তারা অংশীদার খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে এক মাস হাতে-কলমে শিক্ষানবিশ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিতে সহায়তা করবে ব্র্যাক।
সমঝোতা স্মারকে ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খানসহ অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর উর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, টপটেন মার্ট, ক্যাটস আই লিমিটেড, বিশ্বরঙ, আমানা বিগবাজার, রাইজসহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠান। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো খুচরা বিক্রয় খাতে শিক্ষানবিশের সুযোগ বাড়ানো, আরও বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং শোভন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) পরিচালিত ২০২৩ সালের প্রভাব মূল্যায়ন সংক্রান্ত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্র্যাকের খুচরা বিক্রয় প্রশিক্ষণ মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়া তরুণীদের জন্য। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণেরা খুচরা বিক্রয় খাতে কাজের জন্য বেশি আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত থাকেন।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা মাসে গড়ে ১ হাজার ৮২৯ টাকা বেশি আয় করছেন, যা সমপর্যায়ের অন্যান্য নারী কর্মীদের আয় বৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল খুচরা বিক্রয় খাতের জন্য উপযোগী কর্মী তৈরি এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে রিটেইল সেলস অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।








