জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোন চ্যালেঞ্জ নয়, এটি বর্তমান সময়ের কঠিন বাস্তবতা। দেশে বেকারত্বের উচ্চহার ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠার মতো বিকল্প পথ খুঁজে নেওয়া জরুরি, যেন তারা নিজেদের জীবিকাকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার তরুণ শ্রমশক্তির মধ্যে ৭ দশমিক ২ শতাংশ বা প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার তরুণ বেকার।
‘প্রজেক্ট রিফ্লেকশনস অ্যান্ড ইয়ুথ এন্টারপ্রেনারশিপ ফেয়ার’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।
রোববার ৭ই সেপ্টেম্বর ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে ব্র্যাক ও টিকটক যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে শেষ হয় ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট এন্টারপ্রেনারশিপ প্রোগ্রাম ফর ইয়ুথ-লেড বিজনেসেস’ প্রকল্পের।
এক বছরের এই পাইলট উদ্যোগে দেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ১ হাজার ৩৫০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণসহ নানা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভারের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনের পরিচালক শামীমা আক্তার। এছাড়াও ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান এবং মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক মো. বেলায়েত হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ব্র্যাক ও টিকটকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সংখ্যা ৫১ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তারা শুধু নিজেদের স্বপ্নই পূরণ করেন না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন। তারা নিজেদের কমিউনিটিকে অনুপ্রাণিত করেন এবং প্রথাগত চাকরির বিকল্প হিসেবে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠার পথ দেখাবেন।
শামীমা আক্তার বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের নিজেদের সম্ভাবনাকে অনুধাবন করতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি তরুণরা সঠিক বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা পায়, যা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্যময়, উদ্ভাবনী এবং টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সাফি রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় আরও বেশি বেশি উদ্যোক্তা গড়ে উঠা প্রয়োজন।
ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান কাজী রওশন আরা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এই কর্মসূচির হেড অফ অপারেশনস মো. আল ইমরান প্রকল্পের নানা দিক তুলে ধরেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের মনিটরিং, ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড লার্নিং বিভাগের মনিটরিং প্রধান সাজিদুর রহমান।
তরুণ উদ্যোক্তাদের মেলায় মোট ১১টি স্টলে তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের জলবায়ু-সহনশীল পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প, পোশাক, মাটির তৈরি সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রির জন্য প্রদর্শন করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাদিরা খাতুন ও মোসাম্মত উম্মে সালমা, নীলফামারীর শাম্মি আখতার ও মিনু বেগমের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তরুণ উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের অভিজ্ঞতাগুলো উঠে আসে।








