তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার জেরে আন্দোলনে টালমাটাল শহর কলকাতা। প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ভারতে। এইরকম পরিস্থিতিতে কলকাতার দর্শক অনেকটাই হলবিমুখ।
সেই সাথে এই আন্দোলন ঘিরে টলিউডের কিছু ব্যক্তির অবস্থান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও ‘বয়কট টলিউড’ ট্রেন্ডের ছয়লাপ! এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পাওয়া সৃজিত মুখার্জীর ‘পদাতিক’সহ আরো একটি ছবির ব্যবসায়।
রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘বাবলি’ এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘পদাতিক’ মুক্তি পেয়েছিল ১৫ অগস্ট। দু-সপ্তাহ পর এই দুই ছবির বক্স অফিসে হালহাকিকত কী?
বুদ্ধদেব গুহর কালজয়ী উপন্যাসকে বড়পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন রাজ। রোম্যান্টিক ঘরানার এই ছবিতে আবির-শুভশ্রীকে দেখা যায়। তা সত্ত্বেও চলমান আন্দোলন কাঁটা হয়ে বিঁধল টিম বাবলির।
এই ছবির শেষ পর্যায়ের প্রচার পর্যন্ত আরজি কর কাণ্ডের জেরে স্থগিত রাখা হয়, বাতিল করা হয় স্পেশাল স্ক্রিনিং। ন্যায়বিচার চেয়ে পথে নামেন শুভশ্রী-আবিররা। তৃণমূলের বিধায়ক হলেও রাজ চক্রবর্তীও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন ঘটনা নিয়ে। রাজ চক্রবর্তীর প্রোডাকশন হাউসের ব্যানারে তৈরি এই ছবি নাকি দ্বিতীয় সপ্তাহে সগৌরবে চলছে!
অনন্ত প্রোডাকশন হাউসের তাই দাবি। তবে ২-১টা হলেই ভিড় চোখে পড়ছে। জাতীয় মাল্টিপ্লেক্স বাবলির প্রথম সপ্তাহের আয় মাত্র ১৮ লক্ষ টাকা! সে জায়গায় আরও পিছিয়ে ‘পদাতিক’।
সৃজিতের ছবি জাতীয় মাল্টিপ্লেক্সের বক্স অফিসে মাত্র ৬ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে! ছবির প্রযোজক ফিরদাউসুল হাসানের মতে, প্রথম সপ্তাহের চেয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহে হল সংখ্যা অর্ধেক করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহে মানুষ হলে ছবি দেখতে আসছে। বাংলাদেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে চঞ্চল চৌধুরীও ছবির প্রচারে কলকাতায় আসেননি। যার প্রভাব খানিক হলেও পড়েছে ছবির ব্যবসায় মনে করছেন প্রযোজক।
স্যাকনিল্ক.কম-এর রিপোর্টানুসারে, বাবলির প্রথম ১৩ দিনের বক্স অফিসে কালেকশন ৮০ লাখের আশেপাশে। অন্যদিকে পদাতিকের মোট টিকিট বিক্রির পরিমাণ মাত্র ২৩ লক্ষ টাকা! মুখোমুখি লড়াইয়ে টলিউডের ‘ফার্স্ট বয়’ সৃজিতের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাজের ছবি।
তবে মজার বিষয় হচ্ছে, পশ্চিম বঙ্গের বক্স অফিসে প্রথম সপ্তাহে হিন্দি ছবি ‘স্ত্রী ২’ আয় করেছে ১৫.৭৫ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই আয়ের অঙ্ক ২৫ কোটি পার করবে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। এ থেকেও অনুমান করা যায়, দর্শক হলবিমুখ হয়নি; বরং আন্দোলনে টলিউডের নির্মাতা, অভিনেতাদের কারো কারো আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ থাকায় তাদের ছবি দেখতে যায়নি দর্শক।







