আগামী ২২ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবসে প্রকাশ পাচ্ছে গানচিত্র ‘শ্রাবণের ধারার মত’।
এতে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলা সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং এ প্রজন্মের রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী স্বপ্নীল সজীব।
গানচিত্রটির ভাবনা ও সৃজন নির্দেশনায় রয়েছেন স্বপ্নীল সজীব নিজেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান “শ্রাবণের ধারার মত”–এর সঙ্গে মিশে গেছে “বিথিকা” ও “গীতাঞ্জলি” থেকে নির্বাচিত কবিতার পঙ্ক্তিমালা। আবৃত্তি করেছেন নন্দিত আবৃত্তিশিল্পী সামিউল ইসলাম পোলাক। সংগীতায়োজন করেছেন নীলাঞ্জন ঘোষ।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, “এই গানটি গাওয়ার সময় মনে হয়েছিল, যেন নিজের ভেতরের এক স্তব্ধ প্রার্থনা জেগে উঠছে। রবীন্দ্রনাথ যে কেবল সুরের কবি নন, তিনি হৃদয়ের স্তব্ধতারও কবি—এই গানচিত্রে আমরা সেটাই প্রকাশ করতে চেয়েছি। শ্রাবণ মানেই তো এক ধ্যান, এক অর্ঘ্য। আমি গভীর শ্রদ্ধায় এই নিবেদন করলাম কবিগুরুকে।”
স্বপ্নীল সজীব বলেন, “আমি চেয়েছিলাম শ্রোতারা যেন শুধু গান শোনেন না, অনুভব করেন। শ্রাবণের ধারার মত যে ভেজা-কান্না, সেই মনস্তাত্ত্বিক অনুভবটুকু শব্দে, সুরে ও কবিতায় ফুটে উঠুক। বন্যাদি সঙ্গে থাকায় এই যাত্রা হয়ে উঠেছে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান।”
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা—বাংলা সংগীতের এক অনন্য আলো, যাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ফিরে আসেন এক জীবন্ত অনুভবে। স্বাধীনতা পদক (বাংলাদেশ) ও পদ্মশ্রী (ভারত) প্রাপ্ত এই শিল্পী রবীন্দ্রসঙ্গীতকে দিয়েছেন আধুনিক যুগের সংরক্ষণ ও নবজাগরণের রূপ।
স্বপ্নীল সজীব—এই শিল্পী বর্তমানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আন্তর্জাতিক মুখ। জাতিসংঘের যুব প্রতিনিধি প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত হওয়া বাংলাদেশের প্রথম গায়ক তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভারতের টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ড, দুবাইয়ের গ্লোবাল মিউজিক অ্যাওয়ার্ড এবং নেপালের ইন্টারন্যাশনাল আইকনিক অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হন।
‘শ্রাবণের ধারার মত’ শুধুমাত্র একটি গানচিত্র নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক নিবেদন—যেখানে সুর, শব্দ এবং নীরবতার মাঝে ফুটে উঠেছে আত্মসমর্পণের শিল্প। জীবনের চূড়ান্ত সাধনা যেন হয়ে ওঠে—অর্পণ।








