চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গায় বোমা বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় শরিফ উদ্দিন (দুলাল) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে শরিফ উদ্দিন নামে ব্যক্তিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি ঘটে চরবাগডাঙ্গা এলাকায়। এ ঘটনায় নিহত হন আল আমীন ও জিহাদ আলী নামে দুই তরুণ। আহতদের মধ্যে শরিফ উদ্দিনের এক ভাতিজা ও এক চাচাতো ভাই রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, এজাহারনামীয় আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও তদন্তে শরিফ উদ্দিনকে বোমা তৈরির মূল পরিকল্পনাকারী ও পরামর্শদাতা হিসেবে পাওয়া গেছে। তার তত্ত্বাবধানে ভাই কালামের বাড়িতে বোমা বানানো হচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, তালিকায় নাম না থাকলেও তদন্তে আমরা শরিফ উদ্দিন দুলালকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পেয়েছি। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্ত চেয়ারম্যান ও চার হত্যা মামলার আসামি, পলাতক শাহিদ রানা (টিপু)-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শরিফ উদ্দিন। আগে তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র হয়ে কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচনের দিন জামায়াতের বিজয় মিছিল থেকে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিনসহ ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে শরিফ উদ্দিন শনিবার রাতভর তার ভাইয়ের বাড়িতে বোমা তৈরির আয়োজন করেন। তৈরি বোমাগুলো ব্যাগে ভরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানোর সময় ভোরে তাড়াহুড়ার মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে পলাতক শাহিদ রানার নাম রয়েছে এক নম্বরে। এ পর্যন্ত শরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








