এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় শতাধিক আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল ও বিভিন্ন কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সন্তোষ প্রকাশ করলেও জামায়াতসহ কয়েকটি দল কিছু অনিয়মের অভিযোগ করে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আংশিক ফলাফলে দেখা যায়, ইতোমধ্যে ১৫০টির বেশি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। আরও কয়েকটি আসনে তারা এগিয়ে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের তফসিল পরে ঘোষণা করা হবে। ২৯৯ আসনের জাতীয় সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসন। সে হিসেবে এককভাবে সরকার গঠনের সাংবিধানিক শর্ত পূরণে সক্ষম হয়েছে দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃংখল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ফলাফল প্রকাশের পর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে রয়েছে।
নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ভোটের ফলাফল সঠিকভাবে ঘোষণা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃংখলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, নির্বাচিত সরকারকে তা সম্মান করতে হবে। জনগণের সমর্থনে বিএনপির বিজয় অনিবার্য।
বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় পাবে। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় যেন কোনও অসংগতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় থাকতে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে একযোগে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিল ভোটারদের বিশাল লাইন। বেলা যত বাড়ে ভোটারদের উপস্থিতিও তত বাড়তে থাকে। তবে দুপুরের আগেই বেশিরভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তাই বিকেলের দিকে অনেক কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন তাদের ভোট নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে জাল ভোট, সহিংসতা, ককটেল বিস্ফোরণের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সংঘটিত হয়। তবুও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। সমালোচকদের আশঙ্কা উড়িয়ে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে।
নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এর আগে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন দেশ গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেছে ।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোন প্রার্থীই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেননি। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও বড় ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। তাই এই নির্বাচন বর্তমান সরকার ও ইসির জন্য বিশাল অর্জন।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পক্ষ থেকে কিছু আসনে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশন আরও বলেছে, সব কেন্দ্রের ফলাফল চূড়ান্তভাবে গেজেট আকারে প্রকাশের পরই পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ঘোষিত ফলাফল চূড়ান্তভাবে বহাল থাকে, তাহলে দীর্ঘদিন পর জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, মন্ত্রিসভা গঠন এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা জোটনেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হবে।








