বিএনপির এই অবরোধে মানুষ সাড়া দেয়নি বলে মনে করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার।
তিনি বলেছেন, “অবরোধে মানুষ সাড়া দিয়েছে বলে মনে হয় না। সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হয়ে আসছেন। যানবাহন ও ট্রেন চলছে এবং সবই স্বাভাবিক চলছে। অবরোধের প্রভাব জনজীবনে এখনো পর্যন্ত পড়েনি।”
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে কালশী রোডে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
বিপ্লব কুমার বলেন, আজ মিরপুরে ৫ জন জামায়াত কর্মীসহ অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। নাশকতাকারীদের যেখানেই দেখা যাবে যে কোনো অবস্থায় তাদের প্রতিহত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। অবরোধে মানুষ সাড়া দিয়েছে বলে মনে হয় না। সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হয়ে আসছেন। যানবাহন ও ট্রেন চলছে এবং সবই স্বাভাবিক চলছে। অবরোধের প্রভাব জনজীবনে এখনো পর্যন্ত পড়েনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ঝামেলা হয়নি। সকালে কদমতলী থানার দিকে ছোট ঝামেলা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালো আছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার করেছি।
এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেশ কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিল। আজ আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা দেওয়ার চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাস্তায় নামে। পরে সময়ে তিন পক্ষের মধ্যেই ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও পিকেটিং চলে।
সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত ১৫টি বাস, ২টি মার্কেট, একটি ব্যাংকের শাখা ও ২টি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা বিরোধী দলগুলোর তিন দিনের সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধ শুরু হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি।
অবরোধের প্রথম দিন সকালে দেশের কোথাও তেমনভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের। সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অবরোধ আতঙ্কে রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো গণপরিবহন ছেড়ে যায়নি। মানুষের চলাচল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও কম দেখা গেছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এছাড়া রাজধানীর মাতুয়াইলে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঢাকার পল্টনে ও বনানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কিশোরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।ময়মনসিংহতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া অবরোধ শুরুর আগের রাতে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কেউ কেউ হতাহত হয়নি।








