সংস্কৃতিসাধক, ভাষা সৈনিক ও ছায়ানটের সভাপতি বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী অধ্যাপক সন্জীদা খাতুনের ৯০তম জন্মবার্ষিকী মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল)। ১৯৩৩ সালের এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তার ৯০তম জন্মদিনটি নানা আয়োজনে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তারই হাতে গড়া সংগঠন ছায়ানট। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ধানমণ্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে শুরু হয়েছে তার জন্মদিনের অনুষ্ঠান সূচনা।
এদিনে সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরাও নানাভাবে সন্জীদা খাতুনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা স্মরণ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
ছোটবেলা থেকেই সন্জীদা খাতুন সংগীত ও সংস্কৃতি কর্মে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৬১ সালে স্বামী বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও সাংবাদিক ওয়াহিদুল হকের সাথে ছায়ানট প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মধ্যদিয়ে ষাট দশক থেকে সংগীত ও বাঙালি সংস্কৃতি জাগরণের আন্দোলনে কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশ স্বাধীনের পর ছায়ানটের মাধ্যমে সারাদেশে সংগীত ও সংস্কৃতি কর্ম ছড়িয়ে দেন। রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ গঠন করেন। তিনি এই সংগঠনের সভাপতি। সংগীত, সংস্কৃতি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সন্জীদা খাতুনের বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত), দেশিকোত্তম পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)। এছাড়া কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৯৮৮ সালে তাকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য’ উপাধি, ২০১৯ সালে ‘নজরুল মানস’ প্রবন্ধ গ্রন্থের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে। ২০২১ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে।








