নাম, যশ, খ্যাতি আর অর্থ! এক জীবনে এসব কিছুর দেখা পাওয়া মানুষের সংখ্যা বিরল। অথচ এমন বিরল সংখ্যক মানুষের মধ্যে দেশের জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেত্রী শাবানা একজন!
বাংলা চলচ্চিত্রের এই বর্ষীয়ান তারকা অভিনয় থেকে দূরে সরে রয়েছেন প্রায় দুই যুগ। তারপরেও জনপ্রিয়তায় এক বিন্দু চিড় ধরেনি তার। খ্যাতিমান এ অভিনেত্রীকে নিয়ে ভক্তদের কৌতুহলের শেষ নেই। ১৫ জুন শাবানার জন্মদিন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবছরের মতো এবারও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তার ভক্ত থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরাও।
বছর তিনেক আগে গুণী এ অভিনেত্রী চ্যানেল আই অনলাইনকে এক সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। সেখানে শাবানা তার দীর্ঘজীবনে সারমর্মে বলেছিলেন,“জীবনে প্রায় সবই পেয়েছি। দুই যুগের বেশি সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও আজও রাস্তায় কেউ দেখলে সমাদর করেন। পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই আছি। আমি চলে গেলে মানুষ আমাকে হয়তো মনে রাখবে, এমন কিছু কাজ করেছি। কোনো অপূর্ণতা নেই আমার জীবনে। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি, আমি যেন সুস্থতা নিয়েই ভালো থাকি।”
শাবানার পারিবারিক নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। ১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শাবানা গেন্ডারিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হলেও তার পড়ালেখা ভালো লাগত না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তাই ইতি ঘটে মাত্র ৯ বছর বয়সে। চলচ্চিত্রকার এহতেশাম ছিলেন তার চাচা। তার মাধ্যমেই শাবানার চলচ্চিত্রে আগমন। পরিচালক এহতেশামই তার শাবানা নামটি দেন।
শাবানার চলচ্চিত্রে সূচনা হয় শিশু শিল্পী হিসেবে নতুন সুর চলচ্চিত্র দিয়ে। তিনি ২৯৯ টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বেশিরভাগ ছবির নায়ক ছিলেন আলমগীর, রাজ্জাক, জসিম। অসংখ্য পুরস্কারের পাশাপাশি ১০ বার জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেছেন শাবানা, পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।
শাবানা ১৯৭৩ সালে ওয়াহিদ সাদিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ওয়াহিদ সাদিক একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। শাবানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশন্সের মালিক সাদিক। ১৯৯৭ সালে শাবানা হঠাৎ চলচ্চিত্র-অঙ্গন থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ২০০০ সালে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শাবানা-সাদিক দম্পতির দুই মেয়ে-সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে-নাহিন।







