রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলা অবস্থায়, প্রতিনিয়ত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে বিশেষ গোপনীয়তা রক্ষা করে ইউক্রেনে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বার্তা সংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফরে যান বাইডেন। অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন।
প্রতিনিয়ত যুদ্ধ সংগঠিত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে জো বাইডেনের অপ্রত্যাশিত সফরকে “আধুনিক সময়ে নজিরবিহীন” বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
বাইডেনের ইউক্রেনে সফর নিয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক কেট বেডিংফিল্ড বলেছেন,”অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইউক্রেন সফরে গেছেন। সুতরাং এটা মানতে হবে একজন নেতা হিসেবে বাইডেন তার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক জ্যাক সুলিভান জানিয়েছেন, সফরের বিষয়টি সারা বিশ্ববাসীর কাছে গোপন রাখা হলেও, বাইডেনের কিয়েভে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়াকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।
বাইডেন কিয়েভে যাওয়ার পর যেন কোনো ধরনের হামলা বা ভুল বোঝাবুঝি না হয় সেটি নিশ্চিত করতেই রাশিয়াকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুলিভান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা রাশিয়াকে অবহিত করি প্রেসিডেন্ট কিয়েভে যাবেন। দ্বন্দ্ব পরিহারের উদ্দেশ্যে আমরা এ ব্যাপারে তাদের জানিয়েছিলাম। তবে তাদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে বা তারা কি জবাব দিয়েছে এ বিষয়টি আমি প্রকাশ করতে পারব না। কারণ বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, প্রেসিডেন্টের সফরের বিষয়ে রাশিয়াকে অবহিত করা হয়েছিল।’
এদিকে জো বাইডেনের এ সফরকে ‘অভাবনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ। তারা বলেছে, যখন আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ চলছিল তখনও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধবিধ্বস্ত সেসব দেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সফরের সময় ইরাক এবং আফগানিস্তানে অসংখ্য মার্কিন সেনা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বাইডেনই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশে গিয়েছেন, যেখানে তাদের একজন সেনাও নেই।








