বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সামসুন্নাহার জুনিয়রের ইনজুরি আছে- ম্যাচ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফের কাছ থেকে এমন খবর পাওয়া যায়নি। দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি খেলার আগে জানিয়েছিলেন, কোচের কৌশলগত কারণে তিনি একাদশে নাই থাকতে পারেন।
‘এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ-২০২৪’র কোয়ালিফায়ার ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ককে ছাড়াই তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। তবুও গোটা ম্যাচে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা ছিল বেশ স্পষ্ট।
শুক্রবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে লাল-সবুজের দলের কোচ গোলাম রব্বানি ছোটনের কাছে সামসুন্নাহারের না খেলার কারণ জানতে চাওয়া হয়। এরপর জানা যায় তার ইনজুরির খবর।
ছোটন বলেন, ‘সামসুন্নাহারের পায়ে লিগামেন্টের ব্যথা। (ইরানের বিপক্ষে) পরের ম্যাচ তাকে খেলানোর জন্য প্রতি মুহূর্তে চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসা চলছে। সে অবশ্যই আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’
একের পর এক আক্রমণ করে গেলেও বাংলাদেশের গোলের দেখা পেতে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সুযোগ বারবার নষ্ট করা নিয়েও বাংলাদেশ কোচ দেন তার মতামত।
‘আমাদের অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। গোল হয়েছে চারটা। আরও গোল হতে পারতো। আর এখানে সামসুন্নাহার যদি (স্ট্রাইকিং) পজিশনে থাকতো তাহলে আরও গোল হতো। অবশ্যই সামসুন্নাহারের অভাব অনুভব করেছি। তার জায়গায় আইরিন এসেছে। মানিয়ে নিতে সে সময় নিয়েছে।’
এক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ ও ইরানের পয়েন্ট সমান ৩। গোল ব্যবধানে ইরান অনেকখানি এগিয়ে আছে। তাই টাইগ্রেসদের সামনে বাছাইপর্বের পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য জয়ের বিকল্প নেই। দল জেতার জন্যই খেলবে এমন ঘোষণা তাই ছোটন দিয়েই রাখলেন।
অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়ে সামসুন্নাহারের ছিল বড় ভূমিকা, করেছিলেন চার গোল। বড় ম্যাচের আগে তার ইনজুরি বড় অস্বস্তির সেটি গোপন রাখেননি স্বাগতিকদের কোচ।
‘৬০-৬৫ ভাগ তার খেলার সম্ভাবনা আছে। যেহেতু আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে তাই খেলবে এই আশা করি।’
একের পর এক আক্রমণ গড়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসাই রেখেছিল বাঘিনীরা। ঠাণ্ডা মাথায় ফিনিশিং দিতে না পারায় আরও বড় ব্যবধানে জয় জোটেনি। কোচ বিষয়টি আমলে নিয়ে পরের ম্যাচের দিকেই দৃষ্টি রাখছেন।
‘প্রথম ১৫-২০ মিনিট ওরা খুবই তাড়াহুড়া করেছে। তবে সময়ের সাথে সাথে তারা আরও সংগঠিত হয়ে উন্নতি করেছে। ইরানের সঙ্গে আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পায়ের ভলিতে নিশানাভেদ করে টাইগ্রেসদের লিড এনে দেন আকলিমা। তুর্কমেনিস্তানের ফুটবলাররা হ্যান্ডবলের অভিযোগ করলেও রেফারি তা আমলে না নিয়ে গোলের সংকেত দেন। কিক নেয়ার আগে আকলিমার হাতে বল লাগলেও রেফারি তা এড়িয়ে গেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে তুর্কমেনিস্তানের কোচ মিনগাজোভ কামিল অভিযোগ করেন। তার দাবি, এই গোল খেলার মোমেন্টাম পাল্টে দিয়েছিল।
মিনগাজোভ কামিল আরও বলেন, ‘আমরা আগে কখনো এএফসি এশিয়ান কাপের কোয়ালিফায়ার খেলিনি। সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা করব। বাংলাদেশে এসে ভালো লেগেছে সবাইকে ধন্যবাদ।’








