ঈদের বিনোদনে পারিবারিক গল্পনির্ভর নাটকের জনপ্রিয়তা নতুন করে চোখে পড়ছে দর্শকদের মাঝে। একক জুটির গণ্ডি পেরিয়ে এখন নির্মাতারা একাধিক চরিত্র ও সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তৈরি করছেন আবেগঘন গল্প- যা দর্শকদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে সহজেই মিশে যাচ্ছে।
এই ধারারই একটি আলোচিত সংযোজন ‘ডিয়ার ফ্যামিলি’। চ্যানেল আই-এর ঈদ আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রচারিত এই টেলিছবিটি পরিচালনা করেছেন সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি। এতে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ফররুখ আহমেদ রেহান ও মালাইকা চৌধুরী। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাবেরী আলম।
ঈদের চতুর্থ দিন দুপুরে টেলিভিশনে প্রচারের পর একই দিনে ‘সিনেমাওয়ালা’র ইউটিউব চ্যানেলেও মুক্তি পায় ‘ডিয়ার ফ্যামিলি’। মুক্তির পরপরই দর্শকদের বিপুল সাড়া পায় টেলিছবিটি। মাত্র দুই দিনেই এটি প্রায় ৩৫ লাখ বার দেখা হয়েছে, আর মন্তব্য এসেছে সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি—যার বেশিরভাগই ইতিবাচক।
দর্শকদের মন্তব্যে উঠে এসেছে আবেগ, ভালোবাসা এবং গল্পের সঙ্গে গভীর সংযোগের অনুভূতি। ফাতেমা নামে এক দর্শক লিখেছেন, “এতদিনে একটা নাটক দেখে চোখে পানি আসলো, পুরোটা দেখলাম না টেনে।” শাকিলের ভাষায়, “রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও মানুষ আপন হয়, যদি মানুষটা ভালো হয়- এই নাটকে সেটাই সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।”
প্রান্ত নামের আরেক দর্শক বলেন, “আজ পর্যন্ত কোনো নাটকে কমেন্ট করিনি, কিন্তু এই নাটকের অভিনয় আমাকে বাধ্য করেছে।” মো. আকরাম লিখেছেন, “কান্না করে দিছি, এত সুন্দর নাটক।” সুমন হাওলাদার জানান, “নাটকটা দেখে চোখ দিয়ে জল টলটল করে পড়ছে।”
এছাড়া আরও বহু দর্শক নাটকটির শেষ দৃশ্যকে বিশেষভাবে আবেগঘন বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, দীর্ঘদিন পর এমন একটি নাটক দেখলেন যা সত্যিই মন ছুঁয়ে গেছে।
খাদিজা নামের এক দর্শক লিখেছেন, “সত্যিই অসাধারণ ছিল নাটকটা, শেষ দৃশ্যে ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম।” আতিক লিখেছেন, “অনেক ভালো একটা নাটক। নাটকটা দেখে নিজের অজান্তেই অনেকবার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে।”
শুধু গল্পই নয়, অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্সও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে খায়রুল বাসার, রেহানসহ অন্যান্য অভিনেতাদের অভিনয়কে “অসাধারণ” বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে পারিবারিক আবহ, বাস্তবধর্মী গল্প এবং শক্তিশালী অভিনয়ের সমন্বয়ে ‘ডিয়ার ফ্যামিলি’ ঈদের নাট্য আয়োজনের অন্যতম সফল প্রযোজনা হিসেবে দর্শকমহলে জায়গা করে নিলো।








