ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিয়েছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স। কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক নেতাদের তোপের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে ফিজকে গত ডিসেম্বরে নিলাম থেকে কিনেছিল কেকেআর। ছেড়ে দেয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে কোন ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা বাংলাদেশের তারকা পেসার। আইপিএলের একজন কর্মকর্তা সেটির উত্তর দিয়েছেন।
সাধারণত কোন চোটের কারণে বা ব্যক্তিগত কারণেও কোন খেলোয়াড় দল ছেড়ে দিলে, সেক্ষেত্রে আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বিমা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পেয়ে থাকেন একজন ক্রিকেটার। তবে এখানে মোস্তাফিজের দল ছাড়ার বিষয়টি ব্যতিক্রম।
ভারতীয় গণমাধ্যমে নাম প্রকাশ না করে আইপিএলে কেকেআরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের বেতন বিমাকৃত। বিদেশি খেলোয়াড়রা সাধারণত ক্যাম্পে যোগ দেয়ার পর বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন চোট পেলে ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ পরিশোধ করে। বিমা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যায়।’
‘তবে মোস্তাফিজুর রহমানের পরিস্থিতি বিমার আওতায় পড়ে না। তাই আইনে কেকেআরের এক টাকাও দেয়ার দায় নেই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও মোস্তাফিজের সামনে একমাত্র পথ হল আইনি ব্যবস্থা নেয়া। সেটিও আবার আইপিএল ভারতীয় আইনের অধীন। আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে ভারতে। তবে কোন বিদেশি ক্রিকেটারই এপথে যেতে চান না। এমনকি কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার ঝামেলাও নেন না।’
ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের সাথে ওই কর্মকর্তা তুলনা করেছেন বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কও। বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভারত-পাকিস্তানের তুলনায় অনেকবেশি হালকা এবং আগামী বছর এটি পরিবর্তিত হতে পারে, তাহলে কেন কেউ আইনি আশ্রয়ের ঝামেলা নেবে?’
আইপিএল নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিমূলক লড়াইয়ে সাফল্য পেয়েছিল কেকেআর, মোস্তাফিজকে নিতে পেরেছিল দলটি। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের চাপে বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিতে।
ঘটনার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না, ভেন্যু অন্যত্র সরানোর দাবি জানিয়েছে আইসিসিতে।








