ক্রিকেট শুধু চার-ছক্কার খেলা নয়, মাঝে মাঝে এটি ইতিহাসের এক স্মরণীয় সেতুবন্ধন। ৩২ বছর আগে ঢাকা স্টেডিয়ামের (বর্তমান জাতীয় স্টেডিয়াম) সেই একবিংশ শতাব্দীর সাদাকালো দিনগুলো, আর আজকের আধুনিক মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। মাঝখানে বয়ে গেছে অনেক সময়, কিন্তু কিছু দৃশ্য যেন ফিরে ফিরে আসে এক অনন্য রূপে।
একসময়ের ক্রীড়া সাংবাদিকতার তারকা মুখ ফরহাদ টিটো সেদিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তুলে এনেছেন ৩২ বছর আগের এক জলজ্যান্ত ইতিহাস।
ফিরে যাওয়া যাক ১৯৯৪ সালে। তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ক্রিকেট দল বাংলাদেশে এসেছিল দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে। গ্যালারি ভর্তি দর্শক, কিন্তু আজকের মতো এতো প্রটোকল বা নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল না। সেই ম্যাচে তিনতলার ভিআইপি গ্যালারিতে বসে সারাদিন খেলা উপভোগ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। আশেপাশে কোন বাড়তি প্রচার ছিল না, সাধারণ দর্শকরাও হয়তো জানতেন না তাদের পাশেই বসে আছেন দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। প্রচারবিমুখতা আর সাধারণ জীবনযাপনের এক অন্যরকম আবহ ছিল সেই আমলের গ্যালারিতে।
৩২ বছর পর আজ আবার গ্যালারিতে দেখা মিললো এক হাসিখুশি মুখের। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ভিআইপি গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করছেন। তবে দৃশ্যপট এখন অনেকটাই ভিন্ন। নিরাপত্তার কঠোর বেষ্টনী আর মিডিয়ার কল্যাণে প্রতি মুহূর্তের দৃশ্য এখন কোটি মানুষের হাতের মুঠোয়। আজকের দর্শকদের আগ্রহ আর প্রচারের আলো অনেক বেশি। আজকের এই দর্শক ৩২ বছর আগের সেই প্রধানমন্ত্রীর সন্তান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা। বাবা যেখানে খেলা দেখেছিলেন তিন দশক আগে, সেখানে আজ ইতিহাসের চাকা ঘুরে বসে আছেন তার উত্তরসূরি।
স্মৃতির এই জানালায় আরও একটি নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, আতহার আলী খান। ৯৪ সালের সেই ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে ওপেনার হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেদিনের সেই লড়াকু ব্যাটার আজ মাঠের ভেতরে নেই ঠিকই, কিন্তু মাঠে বসেই মাইক্রোফোন হাতে তার চিরচেনা গম্ভীর ও প্রাণবন্ত কণ্ঠে ধারাভাষ্য দিয়ে যাচ্ছেন। খেলোয়াড় থেকে ধারাভাষ্যকার-আতহার আলী খান যেন সেই ১৯৯৪ আর ২০২৬ এর মধ্যে এক জীবন্ত যোগসূত্র।
ইতিহাসের এই কাকতালীয় পুনঃমঞ্চায়ন হয়তো মনে করিয়ে দেয়, সময় বদলায়, দৃশ্যপট বদলায়, কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি এ দেশের মানুষের আবেগ আর উত্তরাধিকার রয়ে যায় একই সুতোয় গাঁথা।








