কোপা ডেল রে’র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের আগে বার্সেলোনা বস হ্যান্সি ফ্লিক বলেছিলেন, ৪-০ গোলে পিছিয়ে থাকলেও তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে চান। ন্যু ক্যাম্পে সেই অসম্ভবকে প্রায় সম্ভব করে ফেলেছিল রাফিনহা-লামিন ইয়ামালরা। তবে প্রথম লেগের সাফল্যে সামান্য ব্যবধানে ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ৪-৩ গোলের জয়ে ১৩ বছর পর এ প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে দলটি।
দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে একটু সময়ের জন্যও বিরতিতে যেতে দেয়নি বার্সেলোনা। পুরোটা সময়ের পরিসংখ্যান বিষয়টিকে আরও পরিষ্কার করে তুলবে। বার্সেলোনা ম্যাচ জিতেছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দীর্ঘ দিন পর এবারই প্রথম বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়া কোপা ডেল রে’র ফাইনাল হতে যাচ্ছে।
৪ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের ম্যাচের পরিসংখ্যান চোখ কপালে তোলার মত। ম্যাচে বার্সেলোনা মোট শট নিয়ে নিয়েছে ১৭টি যার মধ্যে গোলমুখে রয়েছে ৮টি। বল দখলের লড়াইয়েও বার্সেলোনা এগিয়ে, ম্যাচের ৭০ শতাংশ বল তাদের দখলে ছিল। কাতালুনিয়ারা মোট ১৫টি কর্নার আদায় করে নিলেও বিপরীতে ডিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা কোনো কর্নার আদায় করতে পারেনি। বার্সেলোনা মোট ৮টি ফাউলও করেছিল যেখানে অ্যাটলেটিকোর ৬টি।
ম্যাচের শুরু থেকেই ক্রমাগত আক্রমণ করতে থাকা বার্সেলোনার গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় লামিন ইয়ামালের অ্যাসিস্টে গোল করেন মার্ক বের্নাল। বিরতিতে যাওয়ার মিনিটে ডি বক্সে পেদ্রিকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় বার্সা, সেখান থেকে গোল করেন রাফিনহা দিয়াস, ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সা।
বিরতি থেকে ফেরার পর বার্সেলোনা ছিল আরও আক্রমণাত্মক। খেলোয়াড়দের উপর প্রত্যাশার চাপও ছিল অনেক। ৭২ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর অ্যাসিস্টে নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের তৃতীয় গোল করেন বের্নাল। বার্সা তখন ড্র’য়ের ঠিক কাছে। নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়েও ভাগ্যের কাছে হেরে যেতে হয় স্প্যানিশ জায়ান্টদের। দুই লেগ মিলিয়ে এক গোলের ব্যবধানে ফাইনালে উঠে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ সবশেষ ২০১২-১৩ সালে কোপা ট্রফি জিতেছিল। দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও অ্যাথলেটিক ক্লাব বিলবাওয়ের। বুধবার রাতে সেমিফাইনালের অপর লড়াইয়ে নামবে দুদল। এপ্রিল মাসে সেভিয়ায় গড়াবে আসরের ফাইনাল।







