টেবিলের তলানির দল আলমেরিয়ার বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছিল বার্সেলোনা। ঘরের মাঠ এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিসে কাতালান ক্লাবটি পয়েন্ট খোয়ানোর শঙ্কায় পড়েছিল। সের্গেই রবের্তোর জোড়া গোলে শেষপর্যন্ত টানাটানির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা। তিন পয়েন্ট পেলেও এমন পারফরম্যান্সে হতাশ কোচ জাভি হার্নান্দেজ।
হাল না ছাড়ার মানসিকতা দেখিয়ে লড়ে যায় অতিথি দল আলমেরিয়া। দুবার পিছিয়ে গিয়ে সমতায় ফিরেছে। যদিও চলতি মৌসুমে টানা তিন ম্যাচ পর ৩-২ গোলে জয়ের দেখা পেয়েছে বার্সা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাভি দলের ‘অগ্রহণযোগ্য’ পারফরম্যান্সের নিন্দা করেছেন।
‘আমরা যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার চেয়ে অনেকবেশি ভুগেছি। আমরা ৩০টি শট নিয়েছিলাম। প্রতিপক্ষকে আমরা দুই গোল উপহার দিয়েছি। প্রথমার্ধে গোল হজম ছিল অগ্রহণযোগ্য। একজন কোচ হিসেবে এটা মেনে নিতে পারবেন না। বিরতির সময় খেলোয়াড়দের কথাটা বলেছিলাম।’
‘দ্বিতীয়ার্ধটা ভালো ছিল। কিন্তু আমরা অনেক সুযোগ নষ্ট করেছি এবং অনেক ভুল করেছি। একমাসেরও বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে। দলের ভেতর তেজ ছিল না। গত মৌসুমে দলের ভেতর থাকা সেই মনোভাব নেই। কোনো আগ্রাসী ভঙ্গি ও মনোযোগ নেই। আমাদের আরও ছন্দ এবং তীব্রতা দরকার।’
বুধবার রাতে ম্যাচের ৩৩ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনহা বাঁ-পায়ের শটে বল জালে জড়ালে বার্সা লিড পায়। আট মিনিট পর সমতায় ফেরে আলমেরিয়া। সার্জিও আরিবাসের পাসে বল পেয়ে ডানপায়ে নিশানাভেদ করেন লিও ব্যাপটিস্টো। ভিএআরের সাহায্য নিয়ে রেফারি গোলের সংকেত দেন।
প্রথমার্ধের খেলা ১-১ গোলে শেষের পর বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের ইঙ্গিত করে দলটির সমর্থকরা শিস দিয়েছিল। গ্যালারি থেকে এমন আচরণের কারণ জাভির কাছে বোধগম্য নয়।
‘আমি একদমই বুঝলাম না কেন তারা শিস দিল। আমি শিস বাজাতে পছন্দ করি না। আমার জীবনে কখনো শিস বাজাইনি, কিন্তু কেন এমনটা করা হয় আমি সেটা বুঝি।’
‘যেমন বলেছিলাম, পারফরম্যান্স অগ্রহণযোগ্য ছিল। আপনার চেজের অভাব খেলায় থাকতে পারে না। আপনি ভালো খেলতে পারেন। খারাপভাবে জিততে বা হারতে পারেন। এটা কোনো ব্যাপার নয়। তবে আপনাকে ক্লাব এবং প্রতীকের প্রতি সম্মানের জন্য সবকিছু নিংড়ে দিতে হবে।’
১৮ ম্যাচে ১১ জয়, ৫ ড্র ও ২ হারে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ১৭ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে জিরোনা।
বার্সা গত মৌসুমে লা লিগা এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল। দল আগের মতো ভালো অবস্থায় নিতে জাভি খেলোয়াড়দের চেনাছন্দে ফিরতে জয়ের ক্ষুধা দেখিয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
‘আমাদের বার্সা ২০১০ সালে যে মানের দল ছিল, সেই অবস্থা এখন আর নেই। আমাদের একই গুণমান কিংবা সেই ব্যক্তিগত দক্ষতা নেই। আমরা সর্বকালের সেরা বার্সার কথা বলছি। এই মুহূর্তে আমরা তা নই। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং মাঠে সবকিছু নিংড়ে দিতে হবে।’
‘বাস্তবতা হল আমরা যদি সবকিছু উজাড় করে না দেই, তবে আমরা যার বিপক্ষে খেলছি, তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হবে না। আমি জয়ের ক্ষুধার অভাব দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এটা আমার দায়িত্ব যেন এমনটা আর না ঘটে।’








