ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন ও শ্যাডো এলাকাসহ বেশ কিছু স্থানে এসব পোস্টার সাঁটানো হয়। পোস্টারগুলোতে মূলত সংগঠনটির কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত রাত ১টার দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে এসব স্থাপনায় পোস্টার লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, বিষয়টি জানার পরপরই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়াল ও স্থাপনা থেকে ওই বিতর্কিত পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান যে, যেসব এলাকায় রাতে পোস্টার লাগানো হয়েছে, সেই সব পয়েন্টের নিরাপত্তাকর্মীদের তলব করা হবে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হবে। এ ছাড়াও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কারা এই নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগানোর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ নামের একটি ছাত্র সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন এলাকায় তারা এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং নিরাপদ রাখার লক্ষে প্রক্টরিয়াল টিম নিয়মিত টহল জোরদার করেছে। প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে বরদাশত করা হবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও ছাত্র সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে কর্তৃপক্ষ।








