তারুণ্য, ফ্যামিলি সেন্টিমেন্টে ইমোশনের গল্পগুলো অন্যরকম ভাবে স্ক্রিনে ধরতে মাবরুর রশিদ বান্নাহর জুড়ি নেই! প্রায় চার শতাধিক সিঙ্গেল নাটক নির্মাণের মাধ্যমে তিনি ‘সেলিব্রেটি মেকার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বান্নাহর হাত ধরে অভিনয়ে উঠে এসেছেন মুশফিক ফারহান, সৈয়দ জামান শাওন, প্রত্যয় হিরণ, মাহিমারা।
আজকের তৌসিফ, জোভান, সিয়াম, সালমান মুক্তাদির, টয়া, ইভানারা তার নির্মাণে কাজ করে শুরুর পথচলা সুগম করেন। নিশো, অপূর্ব, মোশাররফ করিম থেকে তাহসান, ইরফান সাজ্জাদরা বান্নাহর দর্শক নন্দিত নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের বাহবা পেয়েছেন।
অসংখ্য দর্শক নন্দিত নাটকের নির্মাতা বান্নাহর জন্মদিন সোমবার (২৩ অক্টোবর)। নিজের টিম নিয়ে টানা ১৭দিন শুটিংয়ের পর পুরোপুরি বিশ্রামে আছেন তিনি।
জানালেন, জন্মদিনে কোনো আয়োজন রাখেননি। বাসায় শুয়ে বসে মুভি দেখছেন। বললেন, কাজের চাপে অনেকগুলো মুভি মিস হয়েছে। সেগুলো দেখছি। সন্ধ্যার পর ফ্যামিলি নিয়ে বের হবো। হয়তো জন্মদিনের ছোটখাটো উদযাপন হবে। ফেসবুকে সবাই উইশ করছেন। সেগুলো খেয়াল করছি।
পাঁচ বছর আগেও যখন টিভিতে নাটক প্রচারের জন্য দৌড়ঝাঁপ করা লাগতো, তখন ইউটিউব টার্গেট করে নাটক নির্মাণে যে কজন নির্মাতা তৎপর ছিলেন তাদের মধ্যে বান্নাহ ছিল প্রথমসারীতে। এমনকি তিনি প্রথম নির্মাতা, যিনি নিজ অর্থ দিয়ে ২০১৭ সালে প্রথম ফেসবুকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষে ‘রাস্তা’ একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন।
বান্নাহ বলেন, তখন ফেসবুকে মনিটাইজেশন সিস্টেম চালু হয়নি। অনেকেই হাসাহাসি করেছিল। অনেক শিল্পী এই কাজটি করতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। এক্ষেত্রে শামীম হাসান সরকার ক্রেডিট পাবে। সে বলতে পারবে প্রথম ফেসবুক ড্রামা করেছিল। আমার বিশ্বাস ছিল, ফেসবুক হবে আগামীর সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। ঠিক পাঁচ বছর পর প্রযোজকরা ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে নাটকের লগ্নী উঠাচ্ছেন। এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, এখন মনে হচ্ছে আগামী দশ বছর পর প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব অবস্থান তৈরি হবে, কেউ অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকবে না।
অনেকেই বান্নাহকে ‘নতুন শিল্পী গড়ার কারিগর’ বলে থাকেন। কিন্তু বছর দুয়েক তার নির্মিত কাজগুলোতে তুলনামূলক কম আলোচনা হচ্ছে। কেন এই ছন্দ পতন? উত্তরে বান্নাহর বলেন, এটা কোনো বিগ ডিল না। সবারই এমন হয়। শাহরুখ খানও চারবছর সিনেমা করেননি। তারমানে কি উনি তার অবস্থান হারিয়েছেন? আসলে দর্শকদের প্রত্যাশা আমার কাছে বেশি। এজন্য তারা ছন্দপতন মনে করছেন! কিন্তু প্রতিমাসে যদি দর্শক আমার কাছে আলোচনা হবে এমন কাজ চান, তাহলে তো সেটা আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়। কেউ তো তার সব কাজ দিয়ে আলোচনা তৈরি করতে পারেন না।
”আমি মনে করি, সিঙ্গেল নাটকে আমার নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নাই। যা করার করে ফেলেছি। আমার প্রমাণের জায়গাটা অন্যক্ষেত্রে। সেটা হচ্ছে সিনেমা। আশ্রয়, মায়ের ডাকসহ ব্যাক টু ব্যাক চারবার ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প করেছি। আমি টপ পজিশনে থেকে এই ইন্ডাস্ট্রি দেখেছি। এই সময়টা ছিল প্রায় দশ বছর। তের বছরের ক্যারিয়ারে আমি তিন বছর ধরে মিডিয়াম ফেইস পার করছি। কিন্তু দশ বছর টপ অব দ্য হিলে ছিলাম। আমি এখন স্পষ্ট করে বলতে চাই, নাটকে আমার নিজেকে প্রমাণ করা কিছু নাই, আর এটা করতে চাইও না। তবে হ্যাঁ, এটা ফিল করি, হয়তো আমি দর্শকদের আরও কিছু ভালো এবং পপুলার সিরিয়াল (ধারাবাহিক নাটক) দিতে পারতাম। কমপক্ষে আর তিনটা সিরিয়াল বেশি হলে ভালো লাগতো।”
সিনেমা নির্মাণের জন্যই নির্মাতা হয়েছেন বান্নাহ। তিনি জানান, এতদিন বানায়নি এই দায়ভার সম্পূর্ণই তার নিজের। একাধিক প্রযোজক ও শিল্পীরা তাকে সিনেমা বানানোর জন্য এগিয়ে এলেও নিজে প্রস্তুত হতে পারেননি বলেই শুরু করতে পারেননি। বান্নাহ বলেন, কয়েকজন প্রযোজক আমাকে নিয়মিত অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন। আমি আসলে মন চাইলো আর নেমে পড়লাম এমনটা করতে চাই না। আমার প্রস্তুতিটা শক্তিশালী হওয়া উচিত। সিনেমা বানিয়ে প্রথমে কোনোভাবে হোঁচট খেতে চাই না।সিনেমার নামে নাটক বানাতে চাই না। একবার শুরু করলে আর থামবো না, এটা সত্যি।








