এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সংসারের অশান্তি থেকে বাঁচতে মানুষ কত কিছুই না করে! কেউ হয়তো বাড়ি ছেড়ে কিছুদিনের জন্য বেড়িয়ে আসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ যা করলেন, তা হার মানাবে সিনেমার গল্পকেও। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি সোজা চলে গেলেন ব্যাংক ডাকাতি করতে—উদ্দেশ্য একটাই, গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়া!
ঘটনাটি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের। লরেন্স জন রিপল নামের ওই ব্যক্তি কানসাস সিটির ‘ব্যাংক অব লেবার’-এর একটি শাখায় ঢোকেন। তিনি সরাসরি ক্যাশিয়ারের কাছে যান এবং হাতে একটি নোট ধরিয়ে দেন, যাতে লেখা ছিল, ‘আমার কাছে বন্দুক আছে, টাকা দিন।’ ক্যাশিয়ার ভয় পেয়ে তাকে প্রায় ৩,০০০ ডলার তুলে দেন।
কিন্তু এরপরই ঘটে সেই অদ্ভুত ঘটনা। টাকা হাতে পেয়েও রিপল পালানোর কোনো চেষ্টা করেননি। তিনি ব্যাংকের লবিতে থাকা একটি চেয়ারে গিয়ে শান্তভাবে বসে পড়েন এবং নিরাপত্তারক্ষীকে বলেন পুলিশকে ফোন করতে। পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই অপেক্ষা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা রিপলকে গ্রেপ্তারের পর এর পেছনের কারণ জানতে পেরে অবাক হন। রিপল জানান, ঘটনার আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী তাকে এমন কিছু কথা বলেন, যা তার সহ্য হয়নি। তিনি তদন্তকারীদের সাফ জানিয়ে দেন, ‘বাড়িতে স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার চেয়ে কারাগারে থাকাও অনেক ভালো।’ জেলে গিয়ে এই ‘সংসার যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে রিপল ফেডারেল আদালতে ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগ স্বীকার করে নেন। তার আইনজীবীরা জানান, রিপল সেই সময় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং তার হার্টের অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।
তবে রিপলের জেলে যাওয়ার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। ২০১৭ সালের জুনে মামলার রায় ঘোষণার সময় ফেডারেল বিচারক তাকে কারাদণ্ড না দিয়ে এক অভিনব শাস্তি দেন। বিচারক রিপলকে ৬ মাসের গৃহবন্দিত্ব এবং ৫০ ঘণ্টা কমিউনিটি সার্ভিসের (জনসেবামূলক কাজ) আদেশ দেন।
অর্থাৎ, যে স্ত্রীর হাত থেকে বাঁচতে তিনি এত বড় কাণ্ড ঘটালেন, আদালতের আদেশে তাকে সেই স্ত্রীর সাথেই আরও ৬ মাস একই ছাদের নিচে বন্দি থাকতে হলো। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!







