চট্টগ্রাম থেকে: সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে হেরে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচাতে চট্টগ্রাম টেস্টে জয়ের বিকল্প নেই নাজমুল হোসেন শান্তদের। সিলেটে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে চট্টগ্রামে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া টিম টাইগার্স।
সোমবার চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। ম্যাচে জয়ের বিকল্প ভাবছে না বাংলাদেশ।
সিলেট টেস্টে হারের বড় দায় ব্যাটারদের ব্যর্থতা। টপঅর্ডার ও মিডলঅর্ডার ব্যর্থ হয়েছে রান আনতে। বোলাররা ভালো করলেও জয় আসেনি বাংলাদেশের লড়াই করার মতো সংগ্রহ ঝুলিতে না থাকায়।
সিলেটে দুই ইনিংসেই খুব একটা রান ছিল না দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়ের। মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত রান পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুশফিকুর রহিম নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। জাকের আলি অনিক আশা জাগানিয়া ইনিংস খেলেছিলেন। তিনিও টেনে নিতে পারেননি।
ওপেনিংয়ে ব্যর্থতা ঘোচাতে এনামুল হক বিজয়কে দলে যুক্ত করা হয়েছে। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে ১৪ ম্যাচে ৮৭৪ রান করেছেন এ ওপেনার। ছিল চারটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটির ইনিংস।
অবশ্য সাদা বলের ক্রিকেট থেকে এসে লাল বলে কতটা সফল হবেন বিজয়, সেটিও দেখার বিষয়। বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্সও বলছেন বিষয়টা আদর্শ না।
রোববার ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবিয়ান কোচ বলেছেন, ‘হয়ত এটা (বিজয়ের ডাক পাওয়া) আদর্শ না। তবে যেভাবে প্রতিযোগিতা হয় এখানে, ৪ দিন বা বিপিএল অন্যগুলো। এখানে ওপেনিংয়ের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা। কাজ করে যাচ্ছি এটা নিয়ে।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে প্রথম টেস্ট হার। দ্বিতীয় টেস্টে সেটির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না বাংলাদেশ। এজন্য অতিরিক্ত ব্যাটার খেলাতেও ইচ্ছুক নন সিমন্স। তার মতে টেস্টে ২০ উইকেট নিতে ৫ জন বোলার লাগবে। বলেছেন, ‘আমি বলব, টেস্ট ক্রিকেটে আপনার ৫ জন বোলার লাগবে। এখানে আগেও খেলেছি আমরা। ৫ জন বোলিং খেলিয়েছি। অলরাউন্ডার মিরাজ আছে আমাদের, আগের ম্যাচে সে রান করেনি যদিও। তবে এখানে টেস্টে তার সেঞ্চুরি আছে। আমার মনে হয় না এমন দিকে আমাদের যেতে হবে। আমাদের ৫ বোলার লাগবে।’
সিলেট টেস্টে বল হাতে দারুণ করেছেন নাহিদ রানা। চট্টগ্রাম টেস্টের দলে নেই তিনি। পিএসএল খেলেতে পাকিস্তান গেছেন। পরিবর্তে ডাক পেয়েছেন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা স্পিনার তানভীর ইসলাম। চট্টগ্রামে তিন পেসার খেলালে অভিষেক হতে পারে তানজিম হাসান সাকিবের। কোচ অবশ্য ইঙ্গিত দেননি কয় পেসার বা স্পিনার নিয়ে নামবে বাংলাদেশ।
বলেছেন, ‘হয় ৩ পেসার, ২ স্পিনার নয়ত ৩ স্পিনার ২ পেসার হবে। তবে নির্দিষ্ট করে এখনই বলতে পারছি না। ফাইনাল সিদ্ধান্ত পরে নিব আমরা।’
চট্টগ্রামের উইকেটের প্রশংসা করে সিমন্স বলেছেন, ‘উইকেট দারুণ লাগছে। হার্ড, ফ্ল্যাট। আমরা আশা করি এর ফায়দা নিতে পারব। কিছুটা টার্ন পেলে আশা করি ভালো হবে আমাদের জন্য।’
সব ছাপিয়ে ম্যাচে জয়ের জন্য মূল দায়িত্ব থাকবে ব্যাটারদের কাঁধে। তারা ভালো করতে পারলে বোলারদের বাকিটা সামলানোর সামর্থ্য আছে। যা পরীক্ষিত।
বাংলাদেশ কোচ অবশ্য সিলেটের পুনরাবৃত্তি চিটাগংয়ে চান না। উন্নতির কথা শুনিয়েছেন, ‘আমরা জানি একটি ইউনিট হিসেবে আমরা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে পারিনি। ফলে নিজেদের বিপদে ফেলে দিয়েছি। আমরা চাই পজিটিভ ব্র্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট খেলতে। কেবল বসে থেকে একদিনে ২০০ রান করতে চাই না। ট্রানজিশনের কারণে হয়ত আমরা যেখানে যেতে চাই তাতে একটু সময় লাগবে। আমার বার্তা হচ্ছে, কিছু লুজ শট এবং সফট ডিসমিসাল ছিল আমাদের। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এখানে উন্নতি করতে পারি আমরা।’
চট্টগ্রামের উইকেট বিবেচনা তিন স্পিনার ও দুই পেসারকে খেলাতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে স্পিনে মিরাজ ও তাইজুলের সঙ্গী হতে পারেন নাঈম হাসান। আর পেসে হাসান মাহমুদের সঙ্গী হবেন খালেদ আহমেদ কিংবা তানজিম হাসান সাকিব।
দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সাদমান ইসলাম, এনামুল হক বিজয়, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, জাকের আলি অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, নাইম হাসান ও খালেদ আহমেদ/তানজিম সাকিব।








