অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়-তে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটের দ্বিতীয় দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসন এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেলে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ‘এমওই৩’ কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
মন্ত্রী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের পেশাদারিত্বের উদাহরণ তুলে ধরে বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা কামনা করেন।
এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








