এএফসি এশিয়ান কাপের যাত্রা আগেই শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের। বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরে বিপক্ষে দারুণ লড়াই করলেও হার এড়াতে পারেননি হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে বল দখলের লড়াইয়ে আধিপত্য বজায় রাখলেও ১-০ গোলে হেরে বাছাই শেষ করেছে লাল-সবুজের দল।
সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের স্বাগতিকদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য বজায় রাখে বাংলাদেশ। অল ফুটবলের স্ট্যাটস অনুযায়ী পুরো ম্যাচে ৬৩ শতাংশ সময় বল হামজাদের দখলে থাকে। বিপরীতে ৩৭ শতাংশ বল নিজেদের পাঁয়ে রাখতে পারে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশ মোট ৯৮ বার আক্রমণ করলেও সিঙ্গাপুর আক্রমণে গেছে ৬৫ বার। তবে গোলমুখে দুদলই সমান দুটি করে শট নিতে পেরেছে।
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে চলতে ম্যাচে ১৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর প্রথমবার গোলবারে শট নেয়। তবে দৃঢ়চিত্তে তা রুখে দেন মিতুল মারমা। ৩১ মিনিটে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে নেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। গ্লেন কোয়েহ’র নেয়া শট ঠেকিয়ে দেন মিতুল মারমা। ফিরতি বল পেয়ে হ্যারিসের দিকে বাড়িয়ে দেন ইখসান ফান্দি আহমদ। দারুণ শটে বল জালে পাঠান হ্যারিস।
৩৮ মিনিটে মোরসালিন শট নেন, তবে সিঙ্গাপুর ডিফেন্ডার তা ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বল পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি ফাহিম। পরের মিনিটে ডি বক্সের পাশে ফ্রি কিক পায় বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর নেয়া শট লক্ষ্যে থাকলেও সিঙ্গাপুর রক্ষণভাগ হেডে প্রতিহত করেন।
৪২ মিনিটে চোট পান গ্লেন কোয়েহ। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও লাভ হয়নি। মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ৪৪ মিনিটে তার পরিবর্তে নামেন ইলহান ফান্দি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে জায়ান আহমেদকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন সিঙ্গাপুর অধিনায়ক হারিস হারুন।
হ্যাভিয়ের কাবরেরা শিষ্যরা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও জালের দেখা পায়নি। শেষ অবধি ১-০তে এগিয়ে বিরতিতে যায় সিঙ্গাপুর।
বিরতি থেকে ফিরে একের পর এক আক্রমণে মেতে উঠে বাংলাদেশ। টানা আক্রমণ করলেও স্বাগতিকদের রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি হামজা-জায়ানদের। উল্টো ৭২ মিনিটে মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে বাংলাদেশ জালে বল পাঠান ইলহান। তবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় লিড বাড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।
৭৮ মিনিটে হামজা ক্রস থেকে বল পেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছিলেন মিরাজুল ইসলাম। তবে তার নেয়া শট বারে লেগে ফিরে যায়, ফিরতি বল পেয়ে সাদ উদ্দিন উড়িয়ে দেন আকাশে। সুযোগ হারায় বাংলাদেশ।
৮১ মিনিটে ফের সুযোগ পায় বাংলাদেশ, লং থ্রো থেকে পাওয়া বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন শাহরিয়ার ইমন। বড় সুযোগ হাতছাড়া করে লাল-সুবজের দল।
৮৫ মিনিটে প্রতি আক্রমণে যায় সিঙ্গাপুর। বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসে ওয়ান টু ওয়ান লড়াইয়ে আক্রমণ প্রতিহত করেন মিতুল। পরে যদিও স্বাগতিকদের সেই আক্রমণ অফসাইড ছিল বলে জানায় রেফারি।
এরপর একাধিক আক্রমণ করে বাংলাদেশ। তবে কোনোবারই সফলতার মুখ দেখতে পায়নি। শেষ অবধি ১-০ গোলে হেরে আসর শেষ করতে হল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।








