পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও গেট-টুগেদারের মাধ্যমে আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম।
সোমবার (১৬ মার্চ) সংগঠনটির উদ্যোগে ‘ইফতার ও গেট টুগেদার ২০২৬’ অনুষ্ঠানটি ঢাকার নিউ ইস্কাটনের রেড অর্কিড রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ফার্মাসিস্ট, ফার্মেসি পেশাজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার এবং সিনিয়র ফার্মাসিস্ট মো. বেলায়েত হোসেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম আনোয়ার মজিদ তারেক, সহ-সভাপতি মো. জাকারিয়া ফারুকী, একে আজাদ ও সোহেল বিন আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, অর্থ সম্পাদক আবুল ফজল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান হোসেন শুভ, প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (নির্ঝর), সহ-প্রচার সম্পাদক সাইমুম ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মো. এহসান আহমেদ জুয়েল, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আরিফ খান, ফয়সাল তারিক তন্ময়, মো. মোহাইমিনুল ইসলাম ও মো. মেজবাহ উদ্দিন সাব্বির উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান হোসেন শুভ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার বলেন, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের ছয় দফা দাবির একটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ফার্ম ডি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের সব ফার্মাসিস্ট যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন, তবে ফোরামের ছয় দফা দাবিই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সিনিয়র ফার্মাসিস্ট মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে ফার্মাসিস্টদের সেবা গ্রহণ করেছেন। তাই তিনি ফার্মাসিস্টদের কাজ ও পেশাগত মর্যাদার গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট রয়েছেন, যেখানে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি। তিনি বলেন, এই গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পেশাগত অর্জন সম্ভব। তাই সব ধরনের বিভাজন ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনটি দেশের সব গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করা যায়। একই সঙ্গে নবীন ফার্মাসিস্টদের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর সংগঠনের বিভিন্ন অর্জন, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন। সহ-সভাপতি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মেম্বার সেক্রেটারি সোহেল বিন আজাদ অপু বলেন, বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি আদায়ে মব সৃষ্টি করে সরকারকে চাপ দিলেও বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম সবসময় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে এসব দাবি বাস্তবায়ন করে গেজেট প্রকাশ করা উচিত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাভানা ফার্মার ম্যানেজার (মাইক্রোবায়োলজি) এবং ফার্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফোরাম বাংলাদেশের আহ্বায়ক মনোজিৎ কুমার রায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম বর্তমানে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় এক যুগ ধরে সংগঠনটি দেশের ফার্মাসিস্টদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ফোরামের ছয় দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতে ফার্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফোরাম ও বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। পরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপস্থিত সবার অংশগ্রহণে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়।








