প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ৮ উইকেটের বড় জয় পেলেও দ্বিতীয়টিতে ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে এবার সফরকারীদের সঙ্গে বড় ব্যবধানে হেরেছে টিম টাইগার্স। বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের ১-১ সমতায় ফিরেছে পাকিস্তান । তাতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের খেলা ডাচ-বাংলার সৌজন্যে সরাসরি দেখাচ্ছে ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিন, ধারাভাষ্য প্রচার করছে রেডিও ভূমি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটে নেমে ৪৭.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানের পুঁজি পায় সফরকারী দল। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। জবাবে ২৩.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি মিরাজ বাহিনী। আগের ম্যাচে পাকিস্তানকেও ১১৪ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ।
লক্ষ্যে নেমে শুরুর ৫ ওভারে তিন টপঅর্ডারকে হারিয়ে উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ১২ রান করে আউট হলেও তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত ছুঁতে পারেনি দুই অঙ্কের ঘর। তানজিদ ও শান্ত যথাক্রমে এক ও শূন্য রানে ফেরেন।
এরপরই নামে বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে খেলা। নতুন লক্ষ্যে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন লিটন দাস ও তৌহিদ হৃদয়। ৬০ রানের জুটি ভেঙে লিটন আউট হন ৩৩ বলে ৪১ রান করে। ১৪ রান করা আফিফ ফেরেন মাজ সাদাকাতের বলে সালমান আলী আঘার হতে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর আসা-যাওয়ার মিছিলে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার স্পর্শ করতে পারেনি দুই অঙ্কের ঘর। বাকিদের মধ্যে থেকে শুধু হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। শেষপর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি টিম টাইগার্স।
পাকিস্তানের হয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত। শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট শিকার করেন ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম।
প্রথম ম্যাচেও ৫০ ওভার খেলতে পারেনি পাকিস্তান। ৩০.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে কেবল ১১৪ রান তুলতে পারে। দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে রান তোলায় মনোযোগ দেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। বাংলাদেশের পেসারদের এলোমেলো বোলিংয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়েছেন মাজ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি।
১০৩ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙে মাজকে থামান মিরাজ। ৬ চার ও ৫ চারে ৪৬ বলে ৭৫ করে ফেরেন মাজ। বোর্ডে আর ১৮ রান যোগ করতে আরেক ওপেনার সাহিবজাদাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ২ চারে ৪৬ বলে ৩১ রান করেন তিনি। এক ওভার পর ৬ রান করা শামিল হুসেনকে সাজঘরের পথ দেখান প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করা নাহিদ রানা।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘার ব্যাটে আসে ১০৯ রান। সালমানকে রানআউট করে জুটি ভাঙেন মিরাজ। ৬২ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। একইওভারে আউট হন রিজওয়ান। ৪৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
বড় পুঁজির দিকে পাকিস্তান এগোতে থাকলেও মাঝে ৯ রান করা হুসাইন তালাতকে ফেরান রিশাদ হোসেন। ১১ রান করা আব্দুল সামাদকে রানআউট করেন আফিফ। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ ১৪, শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম ১ রানে আউট হলে থামতে হয় পাকিস্তানকে।
রিশাদ হোসেন ৩ উইকেট করেন ৫৬ রানে ৯.৩ ওভার বল করে। মেহেদী মিরাজ নেন ২ উইকেট ৩৪ রানে, ১০ ওভার বল করে। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেন তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা।








