সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ও বয়সভিত্তিক দলে বংশোদ্ভূত প্রবাসী খেলোয়াড়ের ঢল নেমেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা দেওয়ান চৌধুরী আসার পর সংখ্যাটা বেড়েছে। তাদের নিজেদের সন্তান উল্লেখ করে বিষয়টিকে বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বলছেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার শফিকুল ইসলাম মানিক।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভার পর মানিক কথা বলেন চ্যানেল আইয়ের সাথে। জানান, ‘অনেকদিন পর সমঝোতার ভিত্তিতে একটি প্যানেল বা সিলেকশন হয়েছে, নির্বাচন হয়নি। তবে অনেকদিন পর একটি ভালো কমিটি দেখেছি যা ভবিষ্যতে মোহামেডানের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে কমিটিতে অনেক সংসদ সদস্য রয়েছেন, তারা যদি সঠিকভাবে কাজ করেন, আমাদের জমি ও অন্যান্য সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যে আর্থিক সংকট রয়েছে তা কেটে যাবে।’
‘খেলোয়াড়রা অর্থের অভাবে খেলতে পারছে না বা চ্যাম্পিয়ন হতে পারছে না। আশা করি এই কমিটির মাধ্যমে সেই অবস্থার পরিবর্তন হবে। তবে শুধু অর্থের দিকে তাকালেই হবে না, আমাদের অবকাঠামো যেমন অনুশীলন মাঠ বা নিজস্ব হোম ভেন্যু নেই, সেগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে অনেক সংগঠক আছেন, তারা কাজ করলে ক্রিকেট ঘুরে দাঁড়াবে। হকিতেও ভালো লোক আছেন, তাদের মাধ্যমে হকিও ঘুরে দাঁড়াবে। একটি সুন্দর কমিটি হয়েছে যা ঐতিহ্য ফেরাতে যথেষ্ট, যদিও দুবছর সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। বরকত উল্লাহ বুলু এমপির নেতৃত্বে তারা যদি একটি পরিবার হিসেবে কাজ করেন, তবে বন্ডিং আরও ভালো হবে।’
মেয়েদের ফুটবল নিয়ে মোহামেডানের সাবেক কোচ মানিক বললেন, ‘এশিয়ান কাপের ১২টি দলের মধ্যে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং সবচেয়ে কমা থাকা সত্ত্বেও খেলা আমাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে তারা যে ফুটবল খেলেছে, তা ছিল অতুলনীয়। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না তারা এমন খেলতে পারে। উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, তাই তাদের সাথে না পারাটাই স্বাভাবিক। তবে তাদের প্রচেষ্টা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বিদেশী কোচ ও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় নিয়ে মানিক বললেন, ‘নতুন কোচ এসেছেন, তাকে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। তিনি হুট করে কোন অলৌকিক পরিবর্তন আনতে পারবেন না। ফলাফল যাই হোক, এর কৃতিত্ব অতীত এবং বর্তমান কোচদেরই হবে।’
‘প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই ইতিবাচক। এর ফলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যা তাদের আরও ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করবে। বাইরের খেলোয়াড়রাও আমাদেরই সন্তান, তাই এটি ফুটবলের জন্য মঙ্গলজনক।’







