আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হার দেখেছিল বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে টাইগারদের সামনে ১৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল আইরিশরা। লিটন দাসের ফিফটি, পারভেজ ইমনের দারুণ ইনিংস এবং শেষদিকে সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ক্যামিওতে ৪ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশে। রেকর্ড জয়ে সিরিজে ফিরেছে ১-১ সমতা।
দেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি রানতাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটি। এর আগে ২০২৪ সালে সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৫ রান তাড়া ছিল সর্বোচ্চ রানতাড়ার রেকর্ড।
শনিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান করে আয়ারল্যান্ড। জবাবে নেমে ২ বল হাতে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
রানতাড়ায় নেমে ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ বলে ৭ রান করে তানজিদ তামিম ফেরেন। দ্বিতীয় উইকেটে লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমন মিলে যোগ করেন ৪৩ বলে ৬০ রান। ৯.৫ ওভারে দলীয় ৮৬ রানে ইমন ফিরলে জুটি ভাঙে। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ২৮ বলে ৪৩ রান করেন ইমন।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসানকে নিয়ে ৩১ বলে ৫২ রান যোগ করেন লিটন। ক্যারিয়ারের ১৬তম টি-টুয়েন্টি ফিফটি করে লিটন ফিরলে জুটি ভাঙে। ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৭ রান করেন।
১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৭ বলে ২২ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান। ১৪৯ রানে রানআউট হয়ে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়। ৯ বলে ৬ রান করেন।
১৫৭ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় টিম টাইগার্স। নুরুল হাসান সোহান ফেরেন ৭ বলে ৫ রান করে। পরে শেখ মেহেদী হাসানকে সঙ্গী করে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান সাইফউদ্দিন। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৭ বলে ১৭ রান করেন সাইফউদ্দিন। মেহেদী করেন ৩ বলে ৬ রান।
আইরিশদের হয়ে গ্রেথ ডিলানি ও মার্ক অ্যাডাইর ২টি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় আইরিশরা। উদ্বোধনীতে পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর মিলে যোগ করেন ২৮ বলে ৫৭ রান। ৪.৪ ওভারে জুটি ভাঙেন তানজিম সাকিব। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ২৯ রান করে ফেরেন পল স্টার্লিং।
নবম ওভারে জোড়া সাফল্য পান শেখ মেহেদী, টিম টেক্টর ও হ্যারি টেক্টরকে আউট করেন তিনি। টিম ফেরেন ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ২৫ বলে ৩৮ রান করে এবং ১১ বলে ১১ রান করেন হ্যারি।
মেহেদীর তৃতীয় শিকার হন আইরিশ ব্যাটার বেন ক্যালিৎজ, সাজঘরে ফিরেন ৯ বলে ৭ রান করে। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪৪ বলে ৫৬ রান করেন লোরকান টাকার এবং জর্জ ডকরেল। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে আউট হন ডকরেল, করেন ২১ বলে ১৮ রান। শেষ বলে রান আউট হন টাকার, ৪টি চারে ৩২ বলে করেন ৪১ রান।
টাইগারদের হয়ে ৩টি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী এবং ১টি করে উইকেট নিয়েছেন তানজিম সাকিব এবং সাইফউদ্দিন।








