মেয়েদের এএফসি এশিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে দুই গোলে হজমের পর বড় হারের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন আফঈদা খন্দকাররা। দ্বিতীয়ার্ধে খুব একটা সুবিধা করতে দেননি শক্তিশালী চীনকে। আর কোন গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। ম্যাচে অভিষেক হয়েছে সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর।
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে তৃতীয় মিনিটে লেফট উইং দিয়ে আক্রমণে প্রথম কর্নার আদায় করে নেয় চীন। পরের মিনিটে চীন ভালো একটি শট নিলেও গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। পঞ্চম মিনিটে সরাসরি প্রথম গোলমুখে শট নেয় তারা, রুখে দেন মিলি আক্তার। দশম মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে আক্রমণে উঠতে বাধা দেয়ায় কার্ড দেখেন চীনের লিউ ইয়াতাং।
১২ মিনিটে মিলি প্রথমবার বল ঠেকিয়ে দিলে একই আক্রমণে বল বারে লেগে গোলবঞ্চিত হয় চীন। ১৮ মিনিটে ওয়াং শাং বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়েছিলেন। গোলকিপার মিলি ও শামসুন্নাহার সিনিয়ের প্রচেষ্টায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় লাল-সবুজের দল। দুই মিনিট পর চীনের আরও একটি গোলের সুযোগ ঠেকিয়ে দেন মিলি আক্তার।
ম্যাচের প্রথমদিকে চীনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট, সবকিছুতে এগিয়ে ছিল দলটি। বল দখলের লড়াইয়ে চীন ৫৯ শতাংশ, শট এবং গোলমুখে শটের ক্ষেত্রেও আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে ছিল। ২৩ মিনিটে আর চীনকে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। জিন কুনের রাইট উইং থেকে ক্রসে লেফট উইং থেকে হেডে গোল করেন ওয়াং শুয়াং। তবে অফসাইডে বেশখানিকটা সময় নিয়ে ভিএআর দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি।
অফসাইডে চীনের গোল বাতিল হওয়ার পর আর তেমন আক্রমণ করতে পারেনি চীন। বাংলাদেশ বেশ কয়েকটা আক্রমণের চেষ্টায় কর্নার আদায় করে। ৪৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করে চীনকে ১-০তে এগিয়ে দেন। পরের মিনিটে ঝাং রুই আরও একটি গোল করে চীনকে ২-০তে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আবারও চীনের চাপ শুরু হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও ১৬টি শট নেয় গোলে যার মধ্যে গোলমুখে ছিল তিনটি। এ সময় বাংলাদেশের বল দখল বেশ খানিকটা বেড়ে যায়। বাংলাদেশের বল দখলে ছিল ৪১ শতাংশ। চীনের ৯টি কর্নারের বিপরীতে বাংলাদেশ ৩টি কর্নার আদায় করে নেয়। এ সময় বাংলাদেশ গোলমুখে আরও একটি শট নেয়। পরে ওই ২-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চীন।







