বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম রেইডার মো. আল-আমিন। বঙ্গবন্ধু কাপ-২০২৪ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরের অন্যতম খেলোয়াড় আল-আমিন এক ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন। অন্যান্য ম্যাচগুলোতেও তার সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। জাতীয় দলে অভিষেকের পর বঙ্গবন্ধু কাপের চতুর্থ আসরসহ বিগত তিন আসরে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ফাইনাল শেষে কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে, জানিয়েছেন কাবাডি খেলোয়াড়দের বেতনভুক্ত করার আহ্বান।
কাবাডির অন্যান্য আসর যেমন সাফ গেমস বা এশিয়ান গেমসে তেমন সাফল্য আসছে না কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে আল-আমিন বলেন, ‘এ ধরনের আসরগুলোতে পদক পাওয়া সম্ভব। কারণ এর আগেও আমরা এসব আসরে সাফল্য পেয়েছি। মাঝে কিছুটা সময় বিরতি গেছে। তবে এখন আমরা যেভাবে খেলায় এগোচ্ছি, এটা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সম্ভব হবে।’
‘আমাদের খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা আসলে খুবই কম। যদি সুযোগ-সুবিধা সেভাবে পাওয়া যেতো, তাহলে তৃণমূলের অনেক খেলোয়াড় কাবাডি খেলতে উদ্বুদ্ধ হতো। কাবাডি আসলে এগিয়ে যাচ্ছে। আরও আগাতো, যদি কিছুটা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেতো। যেমন বাংলাদেশে লিগ চালু নেই, ভারতে প্রো কাবাডি লিগ চালু আছে। বাংলাদেশে লিগ চালু নেই তাই আর্থিক সুবিধাও কেউ পায় না। লিগ চালু হলে খেলোয়াড় বের হবে, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
ফেডারেশনের সীমাবদ্ধতা কোথায় এমন প্রশ্নে এ রেইডার জানান, ‘ক্রিকেট, ফুটবল বা অন্যান্য খেলায় পেছন থেকে সহায়তা পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের খেলায় ওই ধরনের সহায়তার পরিবেশ তৈরি হয়নি। কাবাডি ফেডারেশনের যেসব কর্মকর্তা আছেন, আমাদের জন্য তারা যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। আমাদের দেশের যেসব বিনিয়োগকারী আছেন তারা যদি এগিয়ে আসেন, আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’
‘কাবাডি খেলোয়াড় আমরা যারা আছি, তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত। আমাদের ফেডারেশন থেকে কোনো বেতন দেয়া হয় না। আমাদের যদি বেতনের আওতাভুক্ত করা হয়, ভবিষ্যতে যারা আসবে তারাও এর সুফল পাবে। তাহলেই কাবাডির উজ্জল ভবিষ্যৎ দেখতে পারব।’
বিভিন্ন বাহিনীর বাইরে থেকে খেলোয়াড় কেন আসছে না, এমন প্রশ্নে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য জানান, ‘বাহিনীর বাইরে থেকে আসছে না কারণ এখানে আর্থিক কোনো সুবিধা নেই। কাবাডি খেলতে গেলে খরচ আছে অনেক। খেলার জন্য আমরা যে খরচ পাই, সার্ভিসে থাকার কারণে আমরা চলতে পারি। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠে। এজন সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ জন্মায় না।’
‘ফেডারেশন আগেও দিতো, এখনও তৃণমূলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূল থেকে উঠে না আসার একমাত্র কারণ, তারা আর্থিক নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। যেহেতু ফেডারেশন গুরুত্ব দিচ্ছে, একটু আর্থিক সুবিধা দিলে খেলোয়াড় উঠে আসতে বাধ্য। এখন আমাদের একটাই দাবি, একটাই চাওয়া, একটি লিগের ব্যবস্থা করে দেয়া। আর আমরা যেন একটু ভালোভাবে চলতে পারি, সেই হিসেবে একটা বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা যেন করা যায়, সেটাই আমাদের দাবি।’







