বঙ্গবন্ধু কাপ-২০২৪ আসরে প্রথমবার খেলতে এসেছে কোরীয় উপদ্বীপের দেশ সাউথ কোরিয়া। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে না থাকা, প্রো কাবাডির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের আর্মিতে চলে যাওয়া, অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া, তারুণনির্ভর দলটি নানাবিধ সমস্যা নিয়ে খেলতে এসেছিল। পুরো আসরে গ্রুপপর্বের পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে দলটি। টুর্নামেন্টে ভালো করতে না পারলেও বাংলাদেশের প্রচুর সমর্থন পেয়েছে কোরিয়া। বঙ্গবন্ধু কাপের চতুর্থ আসর নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন দলটির কোচ জিনসেক ক্যাং ও ম্যানেজার ডংসিগচোই। তাদের চোখে বঙ্গবন্ধু কাপ সেরা আসর।
প্রথমবার বাংলাদেশে খেলতে এসে কেমন লাগছে এমন প্রশ্নে কোচ জিনসেক ক্যাং বলেন, ‘এটা অনেক ভালো একটি আসর। আমাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। আয়োজনের প্রতিটি দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমাদের কোরিয়ান খেলোয়াড়েরা উন্নতি করতে পারবে এবং ভালো অভিজ্ঞতা পাবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমার চোখে বঙ্গবন্ধু কাপ সেরা টুর্নামেন্ট। কারণ এখানকার প্রতিটি পদ্ধতি আমার কাছে ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ পুলিশের আয়োজন বেশ ভালো।’
প্রথমবার খেলতে আসার পর বাংলাদেশি দর্শকদের প্রচুর সমর্থন পাচ্ছেন, এর রহস্য কী উত্তরে ম্যানেজার ডংসিগচোই জানান, ‘এটা আসলে দেশের মানুষের মানসিকতার উপর নির্ভর করে। তারা কেন আমাদের সমর্থন করছে আমরা সত্যিই জানি না। আমার মনে হয় ফেডারেশনের আয়োজনের জন্যই এমন হয়েছে।’
বাংলাদেশের আতিথেয়তা কেমন লাগছে, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশের আতিথেয়তা ভালো লাগছে। আমরা কোথাও গেলে আমাদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এগুলো আমাদের ভালো লাগছে।’

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কেমন দেখেছিলেন প্রশ্নে কোচ ও ম্যানেজারের উত্তর, ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন দল। তাদের ডিফেন্ডার, রেইডার ভালো। ধীরে ধীরে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আগে প্রতিটি খেলোয়াড়কে বলেছিলাম, বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী দল। খেলা শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিট পর আমাদের খেলোয়াড়েরা তাদের বিপক্ষে টিকতে পারছিল না। প্রথম লোনা নেয়ার পর আমাদের সবাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। তারা আসলেই অনেক শক্তিশালী।’
দলের সবাই পেশাদার কি না এমন প্রশ্নে ম্যানেজার ডংসিগচোই সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বলেন, ‘আমাদের দলের প্রায় সকল খেলোয়াড় তরুণ। তাদের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। দুইজন খেলোয়াড় আর্মিতে চলে গেছে। দুজন খেলোয়াড়ের প্রো কাবাডি খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। এ দল নিয়ে আমরা মাত্র এক বছর অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের প্রচুর অনুশীলন, সময় এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রয়োজন।’

বাংলাদেশের খাবার সুস্বাদু কি না এমন প্রশ্নে, ‘হ্যাঁ, বেশ সুস্বাদু। আমাদের দলের প্রতিটি খেলোয়াড় বাংলাদেশের খাবার উপভোগ করেছে।’

আগামী মৌসুমের আয়োজন সম্পর্কে কোচ জিনসেক, ‘আগামী বছর যদি এ আয়োজন হয় এবং আমাদের যদি আমন্ত্রণ করে আমরা আরও ভালোভাবে ফিরে আসব। আমাদের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড় আমরা পরিবর্তন করব। আগামী বছর আরও শক্তিশালী দল নিয়ে আসব।’







