নৌ বাহিনীতে নয় বছর ধরে কর্মরত আছেন বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের অধিনায়ক তুহিন তরফদার। খেলোয়াড় হিসেবেই নৌ বাহিনীতে ভর্তি হয়েছিলেন বাগেরহাট জেলা থেকে উঠে আসা তারকা। দেশের জাতীয় খেলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখেন স্বপ্ন, গহীনে রাখেন অনেক বড় আশা। বিশ্বকাপে লাল-সবুজের পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরারও দিলেন বার্তা।
বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অধিনায়কদের সঙ্গে ছিলেন তুহিন। ট্রফির সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেয়ার পর চ্যানেল আই অনলাইনকে দিয়েছেন একান্ত সাক্ষাৎকার। দেশের কাবাডির সবচেয়ে বড় আসরে চ্যাম্পিয়ন হতে দল যে বদ্ধপরিকর, সেটিও বললেন।
টুর্নামেন্টটির প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এবারও ট্রফি জয়েই স্বাগতিকরা চোখ রাখছে। তুহিন বললেন, ‘আমি এবং আমার খেলোয়াড়রা, কর্মকর্তারা অনেক স্বপ্ন দেখছি। আমরা শিরোপার হ্যাটট্রিক করব।’
জাতীয় খেলা হলেও ক্রিকেট ও ফুটবলের তুলনায় যোজন পিছিয়ে কাবাডি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রো কাবাডি লিগের মাধ্যমে খেলাটিতে এসেছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। বাংলাদেশে খেলাটির জনপ্রিয়তা বিকাশে গণমাধ্যমকে বড় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
‘গণমাধ্যম হচ্ছে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার একটা মাধ্যম। বাংলাদেশের কাবাডিও পিছিয়ে নেই। বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট সুন্দর একটি আয়োজন। ১২টা দেশ অংশ নিচ্ছে। আপনারা আসেন, খেলা দেখেন। আমাদের নিয়ে কাজ করেন। আমরাও দেশের জন্য ভালো কিছু করি। আপনারা আমাদেরকে সবার কাছে পরিচিত করিয়ে দিন।’
কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী থেকে পান অকুণ্ঠ সমর্থন এবং অনুপ্রেরণা। তুহিনের মতো আরও অনেকেরই আগামীদিনের পথচলার রাস্তাটা হচ্ছে আরও সহজ।
‘দেশের আনাচে-কানাচে কেউ ভালো খেলোয়াড় থাকলে নৌ বাহিনী সেখান থেকে তাদের তুলে আনে। আমি নিজেও খেলোয়াড় হিসেবে ভর্তি হয়েছিলাম। আমি খেলোয়াড় আগে, তারপর সৈনিক। এখানে একটা বড় ভূমিকা নৌ বাহিনী রেখেছে।’
‘প্রত্যেকটা বাহিনী খেলোয়াড় উঠিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছে। আজকে বাংলাদেশে কাবাডি দল যেভাবে গড়া হয়েছে, সব বাহিনী থেকে নেয়া হয়েছে। একজন খেলোয়াড়ও সিভিল নাই। এমন ভূমিকা রাখায় বাহিনীগুলোর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। এই ধারা অব্যাহত রেখে সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়গুলো বেছে নেয়ার ধারা বজায় রাখা হবে সেটাই আশা করি।’
পাইপলাইনে কাবাডি খেলোয়াড় উঠে আসার তথ্যও দিলেন তুহিন। জানালেন, ‘বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন এটা নিয়ে কাজ করছে। জুনিয়র পর্যায়ে একটা বিশ্বকাপ হয়েছে। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় উঠিয়ে এনে অল্পদিন অনুশীলন করিয়ে তাদের বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। দলটা ইরান ও ইরাকের মতো দলের সঙ্গে কঠিন গ্রুপে পড়েছিল। সার্বিকভাবে তাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। তারা উঠে আসবে। পাইপলাইনে অনেক খেলোয়াড় আছে। শেখ কামাল যুব গেমস যেটা হল, সেখান থেকে অনেক খেলোয়াড় বের হয়েছে। তাদের পরিচর্যার মধ্যে রাখলে বাংলাদেশে কাবাডির ভবিষ্যৎ অনেক ভালো।’
আগের দুই আসরের ফাইনালিস্ট কেনিয়াকেই সবচেয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ মানছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘পাঁচটা দল ভালো আছে। এক নম্বরে কেনিয়া, দুই নম্বরে শ্রীলঙ্কা, তিন নম্বরে ইরাক। চাইনিজ টাইপের খেলা আসলে দেখিনি। ওদের আমরা কঠিন দল মনে করছি। থাইল্যান্ডও ভালো দল। এখানে কেউ কারোর চেয়ে কম নয়। বাংলাদেশ ফাইনাল খেলবে আশা করি। কেনিয়াই ফাইনালে উঠে আসতে পারে।’
আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসরটিকে এশিয়া অঞ্চলের কোয়ালিফায়ার হিসেবেও গণ্য করা হবে। অংশ নিতে চলা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা দুটি দল সরাসরি ২০২৪ কাবাডি বিশ্বকাপে খেলবে। সেই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত, জানালেন তুহিন।
বাংলাদেশ দলে ইনজুরি সমস্যার বিষয়টিও কপালে ফেলছে চিন্তার ভাঁজ। ট্রফি উন্মোচনের আগে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘চারজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছে। প্রো কাবাডি খেলে এসে অনুশীলন করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়ে লিটন। ৫০ লাখ টাকায় জিয়াকে কিনেছিল প্রো কাবাডির একটি দল। সেও ইনজুরিতে পড়েছে।’
তুহিন অবশ্য জানালেন ইনজুরিতে পড়া খেলোয়াড়ের সংখ্যাটা আরও বেশি। ‘সবশেষ টুর্নামেন্ট আমরা যাদেরকে নিয়ে খেলেছি সেখান থেকে ৫-৬ জন ইনজুরির কারণে দলের বাইরে চলে গেছে। এখানে আমাদের একটু ঘাটতি আছে। সেটা নতুন খেলোয়াড়দের দিয়ে পূরণ করেছি। সার্বিকভাবে আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। আশা করি এবারও চ্যাম্পিয়ন হবো।’







