বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট’ নামে কাবাডির চারটি আসর আয়োজিত হয়েছে। আসরগুলোতে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং সাউথ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ অংশগ্রহণ করেছিল। প্রথম দুই আসরে আফ্রিকার দেশ কেনিয়াকে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের ঘরে রেখে দেয় বাংলাদেশ। তৃতীয় আসরে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে শিরোপার হ্যাটট্রিক পূরণ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। চতুর্থ আসরও তার ব্যতিক্রম হয়নি, প্রথমবার ফাইনাল উঠা নেপালকে হারিয়ে টানা চার আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে টানা চার শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়েছে কাবাডি দল।
বঙ্গবন্ধু কাপ-২০২৪ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসর গড়ায় মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশ নির্ভার ছিল। কারণ দলে ছিল আন্তর্জাতিক কাবাডি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে থাকা আরুদুজ্জামান মুন্সি, দেশসেরা রেইডার মিজানুর রহমান মিজান, দেশের অন্যতম সেরা ক্যাচার রোমান হোসেন। আসরে বাংলাদেশের সাফল্যের মুকুট ধরে রাখার নেপথ্যে যারা ছিলেন, এক নজরে দেখে নেয়া যাক তাদের পরিচিতি।
আরুদুজ্জামান মুন্সী:
বাংলাদেশের অধিনায়ক ও আন্তর্জাতিক কাবাডি র্যাঙ্কিংয়ের সেরা পাঁচে থাকা দুর্দান্ত একজন রেইডার। চতুর্থ আসরের সেমিফাইনাল ও ফাইনারের নায়ক মুন্সীর বাড়ি বাগেরহাট এবং তিনি বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীতে কর্মরত আছেন।

জাতীয় পর্যায়ে ২০০৭ সালে কাবাডি শুরু করা এ খেলোয়াড়ের ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক কাবাডিতে অভিষেক হয়। অধিনায়ক হিসেবে এবারের বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির শিরোপাজয়ী অধিনায়ক চারটি আসরেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

আরুদুজ্জামানের সাফল্যের ঝুলিও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৬ সালে ভারতে হওয়া বিশ্বকাপ কাবাডির আসরে সেরা তিনে ছিলেন। ২০১০ সালে ইন্দো-বাংলা গেমস কলকাতায় স্বর্ণ পদক জিতেছিলেন। ২০১০ সালে ঢাকায় হওয়া সাউথ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক ছিল তার ঝুলিতে। ২০০৯ ভিয়েতনামে হওয়া ইনডোর এশিয়ান গেমসেও ব্রোঞ্জ ছিল। এছাড়া খেলেছেন ভারতের প্রথম ও তৃতীয় প্রো কাবাডি লিগে।

চতুর্থ শিরোপার মুকুট পরেই কাবাডিকে বিদায় জানিয়েছেন লাল-সবুজের দলনেতা। তবে অন্যতম সেরা এ রেইডার আজীবন কাবাডির সঙ্গেই থাকতে চান।
মোঃ জিয়াউর রহমান:
বাংলাদেশ কাবাডি দলের লেফট কাভার ও সহ-অধিনায়ক মোঃ জিয়াউর রহমান। কুড়িগ্রামের এ খেলোয়াড় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক এ সদস্য। ভারতে হওয়া প্রো কাবাডিতে ২০১৭ সালে পুনে দলে খেলেছেন। পরের মৌসুমে প্রায় ৪০ লাখ টাকায় পুনের হয়ে খেলার কথা থাকলেও নৌবাহিনী থেকে খেলতে যেতে না দেয়ায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন।

২০১৮ এশিয়ান গেমস খেলার পর ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধু কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে সহ-অধিনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কাপের চতুর্থ শিরোপায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু কাপ নিয়ে তার বলার তেমন কিছু নাই। কারণ সবার ভালো পারফরমেন্সে দারুণ খুশি তিনি এবং সবাই ভালো করার কারণে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে। সামনে ওয়ার্ল্ড কাপ কাবাডি নিয়ে তার আশা বাংলাদেশ পদক জিতবে।

মোঃ রাসেল হাসান:
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ সদস্য খেলেন বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের রাইট কাভারে। জামালপুরের রাসেল ২০২১ সালে জাতীয় দলে যোগ দেন। তার আগে ২০১৯ সালে ইরানে হওয়া জুনিয়র বিশ্বকাপ কাবাডিতে খেলে তৃতীয় সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ দলের এ খেলোয়াড়ের সাফল্যের ঝুলিতে তিন বঙ্গবন্ধু কাপ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা রয়েছে। ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু কাপে সেরা ডিফেন্ডার হয়েছিলেন। এছাড়া আন্তঃবাহিনীতে তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপের পদক পুরেছেন তার পকেটে।

এবার বঙ্গবন্ধু কাপে দলকে ভালো সাপোর্ট দিতে পেরে দারুণ খুশি এ খেলোয়াড়। নিজের পারফরম্যান্সেও খুশি তিনি। পরবর্তী কাবাডি বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী রাসেল। বাংলাদেশের যেন পদক থাকে সেটা নিয়ে শতভাগ কাজ করতে আগ্রহী তিনি।

মোঃ আল-আমিন
বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের রাইট রেইডার, কর্মরত আছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-তে। বরিশালের উজিরপুরের আল-আমিন ২০২১ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসেন এবং ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে অভিষেক হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২০২২,২০২৩ এবং ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমস চায়নাতে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ ছিলেন এ রাইট রেইডার।

এমন আয়োজনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেক্রেটারি ডিএমপি কমিশনার জনাব হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক এডিশনাল ডিআইডি গাজী মোজাম্মেল হকসহ ফেডারেশনের সকল কর্মকর্তা, কোচ আব্দুল জলিল ও সুবিমল চন্দ্র দাস, ট্রেইনার সুজিত ব্যানার্জীসহ সকলের প্রতি।

পরবর্তী কাবাডি বিশ্বকাপের তার লক্ষ্য একটাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। কাবাডিতে বিনিয়োগের প্রয়োজন দেখছেন তিনি। এজন্য স্পন্সরদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করেছেন।
মোঃ ইয়াসিন আরাফাত:
জাতীয় কাবাডি দলের লেফট রেইডার। তরুণ এ খেলোয়াড় এবারই প্রথম জাতীয় দলে থেকে বঙ্গবন্ধু কাপ কাবাডি টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। কর্মরত আছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়।

এবারের বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে খুব ভালো পারফরম্যান্স করেছেন ইয়াসিন আরাফাত। শিরোপা জয়ে অবদান রাখতে পেরে দারুণ খুশি এ রেইডার। তার লক্ষ্য ভবিষ্যতে একজন ভালো প্লেয়ার হওয়া এবং বাংলাদেশের কাবাডিকে অনেক উপরে নিয়ে যাওয়া।

বঙ্গবন্ধু কাপে প্রথমবার শিরোপা জেতা নৌবাহিনীর এ সদস্য ক্রিকেট-ফুটবলের মত কাবাডিকেও এগিয়ে নিতে স্পন্সরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার আশা অন্যান্য খেলার মত কাবাডিতেও স্পন্সররা এগিয়ে আসলে দেশে ভালো ভালো খেলোয়াড় তৈরি হবে।

মোঃ লিটন আলী:
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আছেন। কাবাডি জাতীয় দলের এ খেলোয়াড় খেলেন রাইট কর্নারে এবং তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলাতে। ২০২১ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলা লিটন এবারের আসরের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি।

২০২১ সালে জাতীয় দলে যোগ দিয়ে পরপর তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছেন। ২০২১, ২০২২ এবং সবশেষ ২০২৪ সালের শিরোপায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এর বাইরে ২০২২ সালে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করে পঞ্চম হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের রাইট কর্নারের এ খেলোয়াড়ের দেশের বাইরে খেলারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভারতীয় প্রো কাবাডিতে দাবাং দিল্লি কে সি এবং বেঙ্গালুরু বুলসে খেলেছিলেন। কুষ্টিয়ার কাঞ্চনপুর থেকে উঠে আসা লিটনের স্বপ্ন কাবাডিতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

পরবর্তী কাবাডি বিশ্বকাপ নিয়ে এ স্বপ্নাতুর লিটন। তার আশা সামনের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করবে বাংলাদেশ। স্পন্সরদের কাছে তার দাবি, কাবাডির জন্য তারা বেশি বেশি আগ্রহ দেখাক এবং তাদের কাছে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশা তার।
মোঃ রাজিব আহমেদ:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের রাইট রেইডার পজিশনে খেলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ খেলোয়াড়ের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়।

রাইট রেইডারের বঙ্গবন্ধু কাপ ইন্টারন্যাশনাল কাবাডি টুর্নামেন্টে সাফল্য সবেচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত হওয়া চার আসরের সবকটিতেই তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ২০২২ সালে কেনিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ওই মৌসুমে আসরের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। ২০২১ সালে নবম বাংলাদেশ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। এছাড়া ১৯তম এশিয়ান গেমসে পঞ্চম স্থান অধিকার করা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সাথে সংবাদমাধ্যমগুলোকে আসরের সর্বোচ্চ প্রচারের জন্য ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।

এবারের আসরে পারফর্ম করতে পেরে দারুণ খুশি তিনি। বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যদি কর্পোরেট লীগ হয় তবে আমাদের খেলোয়াড়ের অভাব হবে না। আর ভালো ভালো খেলোয়াড় উঠে আসলে কাবাডিতে এশিয়ান গেমস, ওয়ার্ল্ড কাপে পদক আনা সম্ভব।’ তার আশা স্পন্সররা যদি এগিয়ে আসে, বাংলাদেশের কাবাডি আরও সামনে এগিয়ে যাবে।
মোঃ মিজানুর রহমান:
বর্তমান বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা রেইডার। বঙ্গবন্ধু কাপ চতুর্থ আসরের সেরা রেইডার মিজান বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের চিরির বন্দর। ২০২১ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার।

বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন মিজান। ২০১৯ সালে জুনিয়র ওয়ার্ল্ডকাপ হয় ইরানে। ওই আসরে তার নেতৃত্বে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল বাংলাদেশ।

মিজানের অর্জনের পাল্লা বেশ ভারী। বঙ্গবন্ধু কাপ টুর্নামেন্টের চার আসরের চারটিতেই শিরোপাজয়ী তিনি। ২০২৩ মৌসুমে হ্যাটট্রিক শিরোপাজয় করেছিল বাংলাদেশ। ওই আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি, হয়েছিলেন তিন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

এবারের আসরে তার হাত ধরে প্রথম ম্যাচে সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর তিন ম্যাচে সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি। আসরের সেরা রেইডারের তকমাও তার ঝুলিতে উঠে। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে এশিয়ান গেমসেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।
রোমান হোসাইন:
এবারের কাবাডি আসরে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ব্যতীত সব জিতেছে বাংলাদেশ। পুরস্কার জেতা অন্যদের মধ্যে রোমান হোসাইন অন্যতম। পুরো আসরে রেইডারদের কাছে আতঙ্কের এক নাম ছিলেন তিনি। সেজন্য বঙ্গবন্ধু কাপ চতুর্থ আসরে সেরা ক্যাচারের পুরস্কার উঠেছে তার পকেটে।

রোমান বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন এবং তার গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলায়। জাতীয় দলে যোগ দেন ২০২৩ সালে। এবারের আসরে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেক খুশি তিনি।
২০২৩ সালে জাতীয় দলে যোগ দেয়া রোমান ওই বছর বঙ্গবন্ধু কাপ জিতেছেন। এরপর জাতীয় দলের হয়ে ১৯তম এশিয়ান গেমস খেলেছেন। এবারের আসরে দারুণ খেলে সেরা ক্যাচারের পুরস্কার ঢুকেছে তার পকেটে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কাবাডির জন্য ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে তার।

পরবর্তী কাবাডি বিশ্বকাপে তার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। স্পন্সরদের প্রতি তার আহ্বান, ‘যেকোনো খেলায় স্পন্সর ছাড়া খেলা চালানো সম্ভব না। এজন্য স্পন্সরের খুব প্রয়োজন।’
মোঃ সবুজ মিয়া:
বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের অন্যতম রাইট কর্নার। মুন্সিগঞ্জের এ খেলোয়াড় ২০১৬ সাল থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এ সদস্য প্রথমবার বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে এসে শিরোপা জিতেছেন।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলা সবুজ মিয়ার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কাবাডিতে বেশ সাফল্য রয়েছে। ২০১৬ সালে কাবাডি বিশ্বকাপে সেরা তিন ডিফেন্ডারের পুরস্কার জিতেছিলেন। এরপর ১৮ ও ১৯তম এশিয়ান গেমসে খেলেছেন জাতীয় দলের এ তারকা। পরবর্তী কাবাডি বিশ্বকাপে পদক আনতে বেশ আশাবাদী সবুজ এবং দেশের কাবাডিকে এগিয়ে নিতে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তার।

দেশের স্পন্সরদের প্রতি এ খেলোয়াড়ের আহ্বান, ‘যেহেতু কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা। এজন্য তারা যেন কাবাডিকে গুরত্ব দিয়ে এ খেলাকে সারা বিশ্বের কাছে তোলে ধরার সুযোগ করে দেয়। তাদের সহায়তা পেলে দেশের কাবাডি যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।’

মোঃ আরিফ রব্বানী:
বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের লেফট কর্নার বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেয়ার পর ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান।

আরিফ রব্বানীর সাফল্যের পাল্লা বেশ ভারী। বঙ্গবন্ধু কাপ আয়োজনের প্রথম আসর থেকে চতুর্থ আসরের সবকটিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে চতুর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ, ওই দলের সদস্য ছিলেন রব্বানী। ২০২১ এবং ২০২২ সালে পুলিশ ন্যাশনাল কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হন খেলোয়াড়। ভারতের প্রো কাবাডির নবম মৌসুমে তামিল থালেভাসে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

বাংলাদেশের কাবাডিকে এগিয়ে নিতে তার মতে উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। এজন্য ভারতের প্রো কাবাডি লিগের মত বাংলাদেশেও কাবাডি লিগ চালু করার কথাও বলছেন তিনি। খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরলে বাংলাদেশের কাবাডিতেও সাফল্য আসবে বলে মত তার।








