মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটি সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের দ্বীপ—বিশেষ করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালায়, তাহলে নতুন ফ্রন্ট খুলে দেওয়া হবে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালীটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল, যা সুয়েজ খালের দিকে জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বাণিজ্য রুটে পরিণত করেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, “যদি শত্রুপক্ষ ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে আমরা এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, যাতে তাদের ক্ষতি আরও বাড়ে এবং তারা কোনো লাভ না পায়।”
ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী—যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়—ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাব আল-মান্দেবেও উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
হুতিরা যুদ্ধে জড়াতে পারে
ইরানের সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও এই সংঘাতে যোগ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রয়োজনে বাব আল-মান্দেব প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিতে হুতিরা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, হুতি বাহিনী—যারা ‘আনসারুল্লাহ’ নামেও পরিচিত—এই জলপথে কার্যকর হুমকি তৈরি করতে সক্ষম এবং তারা “দক্ষতার সঙ্গে” ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধের সময় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হুতিরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
ইরানের নতুন সতর্কবার্তা
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে শত্রুপক্ষ একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের কোনো দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজের পর যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালীও অচল হয়ে পড়ে, তাহলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হতে পারে।








