বরিশালে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর উদ্যোগে এবং একশনএইড বাংলাদেশ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর সম্মিলিত সহযোগিতায় কার্যরত বিদেশী সহায়তা গ্রহণকারী স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২ নভেম্বর) বরিশালের একটি হোটেলে বিএফআইইউ এর পরিচালক জনাব মো. মোস্তাকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একশনএইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর, ফারাহ কবির।
উক্ত কর্মশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন, পরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো; জনাব আজাহার আলী, সহকারী কান্ট্রি ডিরেক্টর, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং মামুন উর রশিদ, রিস্ক এন্ড কমপ্লায়েন্স উপদেষ্টা, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন একশনএইড বাংলাদেশের ক্যামেলকো মোঃ রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর প্রধান জনাব মোঃ মোস্তাকুর রহমান বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমুহের কৌশলগত বা সিস্টেমগত দূর্বলতা থাকায় অনেক সময় এনজিও সেক্টর কর্তৃক প্রাপ্ত বিদেশি অনুদানের অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যয়িত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা এ সেক্টরকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুসংবাদ পেয়েছে। বাংলাদেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে এনজিও সেক্টরের বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের এনজিও সেক্টরও এই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অসহায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে অর্থের প্রলোভনে খুব সহজেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। তাই যেসব এনজিও প্রতিষ্ঠান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে কাজ করেন তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ অঞ্চলে কর্মরত এনজিওসমূহের কর্মীবাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোকে কোনো অপশক্তি যাতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করতে পারে সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
যে সকল বিদেশি দাতাসংস্থা হতে অনুদান/ত্রাণ/সহায়তা প্রেরণ করা হচ্ছে, তাদের পরিচিতি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে হবে এবং এক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে সহায়তা গ্রহণের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০২ সালে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হলেও ২০১০ সাল হতে এনজিওসমূহকে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সেক্টরকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নমুক্ত রাখতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫), সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ ও তৎসহ বিধিমালাদ্বয় এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত সার্কুলারসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করার বিষয়ে তিনি আহ্বান জানান।
দিন ব্যাপী আয়োজিত এই কর্মশালায় এনজিও সেক্টরেরর মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক ৬ (ছয়) টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এনজিও এ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এর পরিচালক জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং বিএফআইইউ’র অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মোঃ মশিউর রহমান, যুগ্মপরিচালক জনাব মোহাম্মদ ইসমাইল প্রধান ও যুগ্মপরিচালক জনাব দিলীপ চন্দ্র দাস সেশনসমূহ পরিচালনা করেন।
এই কর্মশালা হতে অর্জিত জ্ঞান মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের কাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগবে বলে উল্লেখ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। অনুষ্ঠান সহযোগী তিন উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থা যেন মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের নতুন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে সে বিষয়ে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।








